ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ , ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি মন্ত্রী

​এফএসআরইউ মেরামত শেষে শিগগিরই কমবে জ্বালানি সংকট

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৩-০৮-২০২৬ ০৫:৪০:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৮-২০২৬ ০৭:৫০:০৩ অপরাহ্ন
​এফএসআরইউ মেরামত শেষে শিগগিরই কমবে জ্বালানি সংকট ​ছবি: সংগৃহীত
ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) মেরামতের কাজ শেষ হলে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট শিগগিরই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীতে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত 'বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের কারণে দেশে বর্তমান গ্যাস সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও এতে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে এবং ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সহায়তা নিতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মেরামতের দ্বিতীয় ধাপ শেষ হওয়ার পর বয়লারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৭২ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। এতে সাময়িকভাবে গ্যাস সংকট আরো বাড়তে পারে।

তবে সরকার ইতোমধ্যে এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এফএসআরইউ পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব কার্গো খালাস করা হবে। এর ফলে বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশে বিদ্যুতের চাহিদার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে মধ্যরাতের পরও বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা অব্যাহত থাকে। সম্প্রতি এই চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার কারণে রাতের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব চার্জিং কেন্দ্রের অনেকগুলো অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করছে। সরকার এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে জনসাধারণের প্রতিরোধ এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, এলএনজি সরবরাহ জোরদার এবং বিতরণ ব্যবস্থা উন্নত করতে ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে তিনটি নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যমান পাইপলাইন নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে একটি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে দু’টি নতুন ড্রিলিং রিগ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভোলা থেকে সরাসরি শিল্পকারখানায় গ্যাস পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া নতুন পাইপলাইন নির্মাণের অপেক্ষা ছাড়াই শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহের জন্য কনটেইনারভিত্তিক গ্যাস পরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জ্বালানি খাতের সংস্কারের বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সরকার বিদ্যমান 'সিঙ্গেল বায়ার সিস্টেম' থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বেসরকারি খাতকে তেল আমদানি ও বিতরণের সুযোগ দিতে নতুন জ্বালানি তেল নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রণীত সৌর জ্বালানি নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে উৎসাহ দিতে সরকার কর অবকাশ সুবিধা দিয়েছে এবং ব্যাটারি ও ইনভার্টারের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। এ সংকট উত্তরণে তিনি বিনিয়োগকারী ও গণমাধ্যমের নৈতিক সমর্থন কামনা করেন। সূত্র: বাসস

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ