ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ , ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ

দ্বিতীয় দফায় চিহ্নিত ৪২ প্রতিষ্ঠান, পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে তৎপরতা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৪:৫০:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৪:৫৩:০৫ অপরাহ্ন
দ্বিতীয় দফায় চিহ্নিত ৪২ প্রতিষ্ঠান, পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে তৎপরতা
২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে—এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় দফায় চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদের সন্ধান করে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো।

এ লক্ষ্যে বিশ্বখ্যাত আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা সম্পদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করবে।

এ বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনায় রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্বিতীয় দফায় ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আটটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রোল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেলি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

জানা গেছে, ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে সম্পদ উদ্ধারের এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো ব্যাংকের পক্ষ থেকে অগ্রিম অর্থ দিতে হবে না। তারা নিজস্ব খরচে বিদেশে থাকা সম্পদের সন্ধান ও যাচাই করবে। সম্পদ উদ্ধার হলে তার একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হবে।

এর আগে শীর্ষ ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক ঋণ, অর্থপাচার, কর ফাঁকি এবং অন্যান্য অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এসব শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে—এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) যৌথ তদন্তের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে গ্র্যান্ট থর্নটন, বেকার ম্যাকেঞ্জি, পিডব্লিউসি ও ডেলয়েটের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও সহায়তা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন ও আর্থিক মূল্য শনাক্তে কাজ করছে।

তিনি বলেন, কোনো সম্পদ চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রথমে তা ফ্রিজ বা জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই সম্পদ বিক্রি বা নিষ্পত্তি করে অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগ সফল হলে একদিকে বিদেশে পাচার করা জাতীয় সম্পদের একটি অংশ দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অনাদায়ী বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণও আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ