ডেভিড ইমনের কাছে ভারতীয় আধার কার্ড, নাম ‘আজহার খান’!
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
৩০-০৭-২০২৬ ০৭:৫৫:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩০-০৭-২০২৬ ০৭:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের নাগরিক পরিচয়পত্র ‘আধার কার্ড’ উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কার্ডে তার নাম লেখা রয়েছে ‘আজহার খান’। তবে কার্ডটি আসল নাকি জাল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আধার কার্ডটি ভারতের ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই) কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি ১২ সংখ্যার বায়োমেট্রিকভিত্তিক পরিচয়পত্র। উদ্ধার হওয়া কার্ডে জন্মতারিখ হিসেবে ১৯৯৮ সালের ১২ মে উল্লেখ রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এ মামলায় গত ২২ জুলাই এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ২১টি মামলা রয়েছে।
ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন, আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, মো. শামীম ও মো. সাফায়েত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ডেভিড ইমন কীভাবে এটি সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর সঙ্গে কোনো আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স