ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই শহীদদের অবমাননা করেছে: মীর হেলাল

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ০৮:০৮:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ০৮:০৮:৫২ অপরাহ্ন
​অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই শহীদদের অবমাননা করেছে: মীর হেলাল ​ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি অবমাননা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেন। তিনি কর্মের মাধ্যমে শহীদদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর হেলাল বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যারা সরকার পরিচালনা করেছেন এবং যাদের প্রভাবে সরকার পরিচালিত হয়েছে, তারা জুলাই স্পিরিট, অর্থাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আবেগ, অনুভূতি ও চেতনা, সমুন্নত রাখতে পারেননি। একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে তারা জুলাই শহীদদের প্রতি অবমাননা করেছেন বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, যাদের স্মরণে আজ আমরা কিছু কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, যাদের বাবা-মায়ের আর্তনাদ আমরা শুনেছি, এরকম হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ আর্তনাদ আমাদের গত ১৭ বছর শুনতে হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী নৃশংসভাবে হত্যা, গুমের শিকার হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই নয়, এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে যারা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেছেন, তারাও গুম, খুন, হামলা-মামলা ও কারানির্যাতন থেকে মুক্তি পাননি।

মীর হেলাল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, জনরোষ ও প্রতিবাদের চূড়ান্ত ফলাফল।

তিনি বলেন, কোনো গণঅভ্যুত্থান কোনো এক ব্যক্তি বা এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ, গণতন্ত্রপ্রেমী ও দেশপ্রেমিক মানুষ, যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই এই গণবিস্ফোরণের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

মীর হেলাল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে আমাদের উপলব্ধি হওয়া দরকার— দেশপ্রেমকে সমুন্নত রেখে, দেশের মানুষের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে রেখে দেশ পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করা। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দিন-রাত সেই কাজ করে যাচ্ছি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে আমরা এসব আলোচনা শুনছি। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমপি শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নেপথ্যে থেকে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

মীর হেলাল বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন— ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গণতন্ত্রকে পুনরায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যত ত্যাগ, আত্মাহুতি ও শহীদের রক্ত ঝরেছে, তাদের প্রতি মর্যাদা দেখাতে হলে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা ছাড়া কোনো পথ নেই।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেও এবং এখনো তারেক রহমান যে বিষয়টি ধারণ করছেন, সেটি হলো— সবার আগে বাংলাদেশ। রাষ্ট্র পরিচালনা, সমাজ পরিচালনা কিংবা যেকোনো কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে সবার আগে চিন্তা করতে হবে, এই কর্ম বা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মানুষ উপকৃত হচ্ছে কি না।

মীর হেলাল বলেন, আজকে আমাদের যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে, তার মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ অন্যতম। এই ফ্যামিলি কার্ডের উপকারিতা প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা পাচ্ছেন। যারা প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন দেখেন না, তারা এর গুরুত্ব বুঝতে পারবেন না।

তিনি বলেন, একইভাবে কৃষক কার্ড, বিভিন্ন ধর্মের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সম্মানী, স্পোর্টস কার্ড এবং খেলোয়াড়দের সম্মানীসহ যতগুলো গণমুখী ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, এগুলো প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর থেকে জুলাই এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেন।

মীর হেলাল বলেন, এখানে যারা শহীদ পরিবারের সদস্য রয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সীমিত সম্পদের মধ্যেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে। দল হিসেবেও আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব। আশা করি, দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দরাও তাদের পাশে থাকবেন।

তিনি বলেন, বিপ্লবের গল্প শুনে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। এজন্য প্রয়োজন দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে কাজ করা এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই নেতৃত্বই দিচ্ছেন।

তিনি সবাইকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ