ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্যান্ড ব্যাটারি চালু করল ফিনল্যান্ড

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ০৮:০৪:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ০৮:০৪:৫২ অপরাহ্ন
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্যান্ড ব্যাটারি চালু করল ফিনল্যান্ড ​ছবি: সংগৃহীত
নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সব সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়া। সূর্য না থাকলে সৌরবিদ্যুৎ এবং বাতাস না থাকলে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এই সমস্যার সমাধানে অভিনব প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে ফিনল্যান্ড। দেশটির একটি ছোট শহরে চালু হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ‘স্যান্ড ব্যাটারি’, যা বালুর মাধ্যমে তাপশক্তি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা যায়।

শনিবার (২৫ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ফিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের পোরনাইনেন শহরে নির্মিত এই স্যান্ড ব্যাটারিটি ১৩ মিটার উঁচু ও ১৫ মিটার চওড়া। এতে প্রায় ২ হাজার টন চূর্ণ সাবানপাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রায় ১০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা তাপশক্তি সংরক্ষণ করতে পারে।

এই ব্যাটারির মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দার গ্রীষ্মকালে প্রায় এক মাস এবং শীতকালে প্রায় এক সপ্তাহের গরমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

প্রকল্পটি পরিচালনা করেছে পোলার নাইট এনার্জি, আর এটি ব্যবহার করছে স্থানীয় জেলা তাপ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লভিসান ল্যাম্পো।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি চালুর ফলে স্থানীয় হিটিং নেটওয়ার্কের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে এবং কাঠের চিপসের ব্যবহার প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যদিও জরুরি প্রয়োজনে আগের কাঠভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখা হয়েছে।

কিভাবে কাজ করে?

স্যান্ড ব্যাটারি মূলত একটি বড় তাপ সংরক্ষণাগার। যখন সৌর বা বায়ুবিদ্যুৎ থেকে প্রচুর এবং তুলনামূলক সস্তা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তখন সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বালুকে উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা হয়। বিশেষভাবে নিরোধকযুক্ত (ইনসুলেটেড) সাইলোতে সেই তাপ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে সংরক্ষণ করা যায়।

পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই তাপ ব্যবহার করে পানি গরম করা হয় এবং শহরের জেলা হিটিং নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা হয়।

পোলার নাইট এনার্জির প্রধান নির্বাহী টমি এরোনেন বলেন, ভবিষ্যতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় আকারের শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি প্রয়োজন হবে। তার মতে, স্যান্ড ব্যাটারির অন্যতম সুবিধা হলো এতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো বিরল খনিজ প্রয়োজন হয় না।

বিশ্বজুড়ে আগ্রহ

পোলার নাইট এনার্জির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশ থেকেই এই প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, বিশেষ করে যেসব অঞ্চল এখনো কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরশীল।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ও জলবায়ু নীতির অধ্যাপক জ্যান রোজেনো বলেন, তাপ সংরক্ষণভিত্তিক এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ এটি দীর্ঘ সময় শক্তি সংরক্ষণ করতে পারে এবং বিদ্যুৎ সস্তা থাকলে শক্তি জমিয়ে পরে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেমন, সংরক্ষিত তাপকে আবার বিদ্যুতে রূপান্তর করা তুলনামূলক কঠিন এবং এর শক্তি ঘনত্ব প্রচলিত রাসায়নিক ব্যাটারির তুলনায় কম।

তবুও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অনিয়মিত উৎপাদনের সমস্যা কমাতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাসে স্যান্ড ব্যাটারি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ