সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তের পরিকল্পনা নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৬-০৭-২০২৬ ০৭:২২:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৬-০৭-২০২৬ ০৭:২২:৪৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে লক্ষ্য করে আলাদাভাবে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তে তার বা অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাকে কেন্দ্র করে পৃথক কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই।
তবে তিনি জানান, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। এসব তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনিয়ম চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। তদন্তে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের কথিত ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্সের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সম্প্রতি হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, আদালত এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
হাইকোর্টে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরে তিনি ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি ছিল জেএমসি বিল্ডার্স এবং এসব ঋণের অর্থ এখনো পরিশোধ হয়নি।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য হলো, ব্যক্তি বিশেষকে লক্ষ্য করে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই অনিয়মের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স