ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​প্রথমবার ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন দিলো ভারত

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৪:২৯:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৮:১৪:২৫ অপরাহ্ন
​প্রথমবার ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন দিলো ভারত ​ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো কোনো ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে ভারত। দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাতের অনুমতি দিয়েছে।

ভারতে ডেঙ্গু বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ অনুমোদন দেওয়া হলো। গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতে রেকর্ড হয়, যদিও বিভিন্ন গবেষণা বলছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি।

তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চার থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা এই টিকা নিতে পারবেন। ‘কিউডেঙ্গা’ একটি লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড টেট্রাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম। তিন মাসের ব্যবধানে দুই ডোজে এই টিকা প্রয়োগ করতে হয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা বিবেচ্য নয়। অর্থাৎ, পূর্ববর্তী সংক্রমণ শনাক্তের কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন ছাড়াই এই টিকা দেওয়া যাবে।

ডিসিজিআইর অনুমোদন এসেছে তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ১৯টি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের ফলাফলের ভিত্তিতে। এসব গবেষণায় প্রায় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।

আটটি ডেঙ্গুপ্রবণ দেশে ২০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত ফেজ-থ্রি ‘টাইডস’ ট্রায়ালে দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর গবেষণাগারে নিশ্চিত হওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ১৮ মাস পর ডেঙ্গুজনিত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে।

সাড়ে চার বছর পরের বিশ্লেষণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে কার্যকারিতা ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ পাওয়া গেছে। সাত বছরের ফলো-আপেও চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা বজায় থাকার তথ্য মিলেছে।

ভারতে চার থেকে ৬০ বছর বয়সীদের ওপর পরিচালিত পৃথক ফেজ-থ্রি ট্রায়ালেও টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং কার্যকর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাকেদা জানিয়েছে, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের ৪৩টি দেশে ইতোমধ্যে ‘কিউডেঙ্গা’ অনুমোদন পেয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় এই টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে এবং টিকাটি সংস্থাটির প্রাক-যোগ্যতাও (Prequalification) অর্জন করেছে। বর্তমানে ব্রাজিলের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকারি কর্মসূচিতেও টিকাটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

তাকেদা জানিয়েছে, ভারতে টিকাটির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে তারা দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ