ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমিশন বৃদ্ধির দাবি

৩০ জুলাই সারাদেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৩:৪০:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৩:৪১:৪২ অপরাহ্ন
৩০ জুলাই সারাদেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা ​ছবি: সংগৃহীত
কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে সকল সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি আদায় না হলে ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আলটিমেটাম ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। 

কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত, মহাসচিব ফারহান নূরসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে (১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে) সিএনজি প্রতি ঘনমিটারে নির্ধারিত ৮ টাকা কমিশন অপরিবর্তিত। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি, সরকারি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকের গ্যারান্টি কমিশন ও সুদ বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে লোকসান গুনে সিএনজি স্টেশন পরিচালনা করা মালিকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সিএনজি ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের কাছে ৪টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— সিএনজি কমিশন বর্তমানের ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ১৩.৯৬ টাকা নির্ধারণ করা, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলে তা আনুপাতিক ও স্বয়ংক্রিয় পন্থায় কমিশনের সাথে সমন্বয় করা, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে বর্ধিত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল করা এবং সড়ক ও জনপথের ভূমি বা সংযোগ সড়কের ইজারা মাশুলসহ সকল সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশব্যাপী সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন প্রতীকীভাবে বন্ধ রাখা হবে। তবে এই সময়ে সরকারের সাথে আলোচনা প্রক্রিয়া চালু থাকবে। এই প্রতীকী ধর্মঘট ও আলোচনার মাধ্যমে যদি কোনো ফলপ্রসূ সমাধান না আসে, তবে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে সারা দেশের সকল সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরাসরি তুলে ধরার জন্য তারা একাধিকবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেও সফল হননি।

সংবাদ সম্মেলনে সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কমিশন প্রতি ঘনমিটারে ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে মোট ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার জোর দাবি জানিয়ে সুনির্দিষ্ট দুটি যুক্তি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির সমন্বয় (সর্বশেষ ৩ জুনের বৃদ্ধির ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ২০% বৃদ্ধি পাওয়া) এবং মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয় (বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতি)।

মালিক সমিতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, সিএনজি খাতের এই কমিশন বৃদ্ধির দাবি নতুন নয়। এর আগে মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা কর্তৃক গঠিত উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ করলেও বিইআরসি ২০১৫ সালে মাত্র ১ টাকা মার্জিন বৃদ্ধি করে অবশিষ্ট অংশ দীর্ঘ এক দশক ধরে ফাইলবন্দি করে রেখেছে।

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারিত থাকায় এই বাড়তি উৎপাদন খরচ তারা নিজেরা গ্রাহকদের ওপর চাপাতে পারছেন না। ফলে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এখন চরম লোকসান ও ধ্বংসের মুখে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ