ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​এক অদম্য মুসলিম নারীর ত্যাগেই আজকের লামিনে ইয়ামাল

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০১:৫০:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০১:৫০:৫১ অপরাহ্ন
​এক অদম্য মুসলিম নারীর ত্যাগেই আজকের লামিনে ইয়ামাল ​ছবি: সংগৃহীত
পায়ের ঝলক দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়েন তরুণ লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনায় নিজের জাত আগেই চিনিয়েছেন এই উইঙ্গার। স্পেনের হয়েও জিতেছিলেন ইউরোর শিরোপা। এবার নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। মাত্র ১৯ বছরেই বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন এই তারকা।

তবে লামিনে ইয়ামালের এই শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর গল্পটি কেবল ফুটবল মাঠের নয়। এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক পরিবারের সংগ্রাম ও কঠিন আত্মত্যাগের গল্প। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশেষ প্রতিবেদনে ইয়ামালের জীবনের এই অনুপ্রেরণাদায়ী গল্পটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল আজ থেকে কয়েক দশক আগে। তার পৈতৃক দাদি, ফাতিমা রোমানি, পরিবারকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়ার আশায় মরক্কো থেকে একা স্পেনের উদ্দেশে রওনা হন। কোনো আইনি কাগজপত্র ও আর্থিক সাহায্য ছাড়া অচেনা এক দেশে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্পেনে পৌঁছে ফাতিমা প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় অবস্থান করার পর পরিশেষে কাতালুনিয়ার মাতোরো শহরের রকাফোন্দা এলাকায় থিতু হন। সেখানে শুরুতে তার কোনো নিরাপত্তা বা আর্থিক সংস্থান ছিল না। মরক্কোতে রয়ে যাওয়া নিজের সন্তানদের (যার মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই ছিলেন) স্পেনে নিয়ে আসার জন্য ফাতিমা দিনে একাধিক শিফটে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন। একটানা কাজ করে জমানো অর্থ দিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিজের কাছে এনে পরিবারকে পুনর্মিলিত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে ইয়ামালের শৈশবে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটলে দাদি ফাতিমা আবারও পরিবারের মূল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়ান। রকাফোন্দার কঠিন পরিবেশের মধ্যেও তিনি ইয়ামালকে আগলে রাখেন, তাকে স্থিতিশীলতা দেন এবং ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন।

পেশাদার ফুটবলে সাফল্য পাওয়ার পরও ইয়ামাল নিজের শৈশব ও দাদির অবদান ভুলে যাননি। মাঠে গোল করার পর তিনি আঙুল দিয়ে যে '৩০৪' সংখ্যাটি প্রদর্শন করেন, তা মূলত রকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোড (০৮৩০৪)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।

ইয়ামালের বিভিন্ন মন্তব্য থেকে জানা যায়, ফুটবল মাঠে ট্রফি জেতার চেয়েও তার কাছে বেশি আনন্দের হলো তার বাবা, মা ও দাদিকে শান্তিতে রাখা। ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইয়ামাল তার অর্জিত অর্থ দিয়ে রকাফোন্দাতেই দাদি ফাতিমার জন্য একটি বাড়ি কিনে দেন, যেখানে তিনি আজও বসবাস করছেন। বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে থাকার পরও নিজের অতীত ও দাদির আত্মত্যাগের কথা ইয়ামাল সব সময় গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। 

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ