তেঁতুলিয়া গিলে খাচ্ছে সড়ক, হুমকিতে মসজিদ ও দোকানপাট
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-০৭-২০২৬ ০৬:২০:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-০৭-২০২৬ ০৬:২০:৫৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে ধসে পড়ছে পাকা সড়ক। ঝুঁকির মুখে পড়েছে জামে মসজিদ, লঞ্চঘাটসংলগ্ন দোকানপাট এবং নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের বিস্তার অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজিরহাট লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে পাকা সড়কের একাধিক অংশ নদীগর্ভে ধসে গেছে। কোথাও সড়কের কিনারা ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের সময় নদীর ঢেউ সরাসরি নদীতীরে আঘাত করায় প্রতিদিনই ভাঙনের পরিধি বাড়ছে। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে নদীতীর ধসে পড়ায় লঞ্চঘাটসংলগ্ন কয়েকটি দোকানও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে হাজিরহাট জামে মসজিদের সামনের অংশের নিচের মাটি নদীভাঙনে সরে যাওয়ায় ভবনটির ভিত্তি হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মসজিদটিও যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট, হাজিরকান্দা, ঢনঢনিয়া, গোলখালী ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় প্রতিবছর নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় অরক্ষিত বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে বসতঘর, কৃষিজমি, মাছের ঘের এবং গ্রামীণ সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক পরিবারকে প্রতিবছরই নদীভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেছেন, ‘আমি যখন নতুন বউ হয়ে এ এলাকায় আসি, তখন এখানে বাজার ছিল, স্কুল ছিল, বড় বড় ঘরবাড়ি ছিল। তেঁতুলিয়া নদী একে একে সব কেড়ে নিয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা সামসু মুন্সী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এক এক করে আমাগো দুইটা ঘর নদীতে লইয়া গেছে। এখন পরের জায়গায় ঘর কইরা থাকি।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। তারা দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদীশাসনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, ভাঙনরোধে আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ চলছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা সচল রাখা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলায় মোট প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৬ কিলোমিটার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স