ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফুটবল

প্রিয় দল হারলে আমরা এত কষ্ট পাই কেন?

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ১২:৩৪:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ১২:৩৪:০৪ অপরাহ্ন
প্রিয় দল হারলে আমরা এত কষ্ট পাই কেন? ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
দেখতে দেখতে বিদায়ের লগ্ন চলেই এলো। বলছিলাম বিশ্বকাপ ফুটবলের কথা। চার বছর অপেক্ষার পর যে উন্মাদনার শুরু হয়েছে তা হয়ত আগামী কয়েকদিন পরই ম্লান হয়ে যাবে। আজ মধ্যরাতেই জানা যাবে কার মাথায় উঠতে চলেছে বিজয়ের মুকুট। ইতোমধ্যে অনেকের প্রিয় দল বিদায় নিয়েছে। পছন্দের দলের হার যেন নিজের হার হয়ে নেমে এসেছে কারো জীবনে। মুখ ভার করেছেন, কেউ ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন, কেউ নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে। 

কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে দলটি আমাদের দেশ নয়, যে খেলোয়াড়দের আমরা ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, তারা হারলে আমরা কেন এত কষ্ট পাই? 

আসলে ফুটবল দেখার সময় সমর্থকরা শুধু দর্শক থাকেন না। প্রিয় দলের সঙ্গে অজান্তেই একটি মানসিক সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। তাই দল জিতলে মনে হয়, ‘আমরা জিতেছি; দল হারলে মনে হয়, ‘আমরা হেরে গেছি।’

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বিকল্প পরিচয় বলা হয়। অর্থাৎ একজন মানুষ নিজের পরিচয়ের একটি অংশকে যুক্ত করে ফেলেন কোনো দল, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। স্বাভাবিক ভাবেই তাই দলের সাফল্য নিজের অর্জন মনে হয় আর পরাজয় দেয় ব্যক্তিগত হতাশা। এই কারণেই বিশ্বকাপে কোনো দল হারলে সেই দলের সমর্থকদেরও স্বপ্ন ভেঙে যায়। 

আবেগ আর কষ্ট যখন এক সুতোয় গাঁথা : 

একজন সমর্থক প্রিয় দলকে যে কেবল ৯০ মিনিট সাপোর্ট করেন ব্যাপারটা এমন নয়। বছরের পর বছর সেই দলের খেলা দেখেন, খেলোয়াড়দের অনুসরণ করেন, জার্সি কেনেন, দল নিয়ে বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে তর্ক করেন, দলের ইতিহাস জানেন। কেউ কেউ প্রিয় দলের সঙ্গে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিও জুড়ে দেন।

বাবার সঙ্গে দেখা প্রথম ম্যাচ, বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া কোনো ঐতিহাসিক জয়, কোনো প্রিয় খেলোয়াড়ের কারণে একটি দলের সমর্থক হয়ে ওঠা, কোনো জয়ের দিন নিজের জীবনেও স্পেশাল কিছু করা— এসব স্মৃতি দলটির সঙ্গে আবেগের বন্ধন আরও শক্ত করে। আর আবেগ যেখানে আছে, সেখানে আনন্দ আর বেদনা দুটোই থাকা স্বাভাবিক। তাই প্রিয় দলের হার মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

প্রত্যাশা ভেঙে গেলে বাড়ে হতাশা :

প্রিয় দলকে নিয়ে প্রত্যাশা কার না থাকে? সবাই ভাবেন, তার সমর্থন করা দলই এবার বিশ্বকাপ জিতবে। এই ভাবনা যখন ভুল প্রমাণিত হয় তখন তা হতাশার কারণ করে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যখন মনে হয় দলটি জিততে পারত, কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করেছে বা টাইব্রেকারে হেরে গেছে।

এমন পরাজয়কে অনেক সময় সমর্থকরা ‘অন্যায্য’ বলে মনে করেন। তাদের মনে হয়, জয়টি তাদের দলের প্রাপ্য ছিল। ফলে হতাশার সঙ্গে যুক্ত হয় ক্ষোভ, আফসোস ও ‘যদি এমন হতো’ ধরনের চিন্তা। শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়া, পেনাল্টি মিস করা কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে হার— এসব পরাজয় সাধারণ হারের চেয়ে বেশি কষ্ট দেয় সমর্থকদের। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কষ্ট বাড়ায়: 

আগে কোনো ম্যাচ হারার পর হয়তো সমর্থক একা ঘরে বসে মন খারাপ করতেন। নিজেকে সামলে উঠতেন। কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই সামনে আসে অসংখ্য মিম, ট্রল, বিশ্লেষণ, সমালোচনা ও প্রতিপক্ষের উল্লাস। কখনো কখনো বন্ধু বা সহকর্মীরা মেনশন করে, ট্যাগ করে হাসি ঠাট্টা করেন। ফলে পরাজয়ের অনুভূতি আরও দীর্ঘ হয়। বাড়ায় হতাশা। 

ফুটবল সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো, তারা জানেন যে এটি একটি খেলা। তবু আবেগের মুহূর্তে সেই যুক্তি কাজ করে না। ম্যাচ হারার পর মনে হয়, এতদিনের অপেক্ষা, এত রাত জাগা, এত উত্তেজনা সবকিছু যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে একটি পরাজয় কখনো কখনো চার বছরের অপেক্ষার দরজা খুলে দেয়।

তখন একটি ম্যাচের হার শুধু একটি ম্যাচের হার থাকে না। তার সঙ্গে জুড়ে যায় চার বছরের অপেক্ষা, পুরোনো স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। তাই প্রিয় দল হারলে আমরা না চাইলেও কষ্ট পাই। আবার আশার চাদর বুনতে শুরু করি। পরেরবার নিশ্চয়ই ভালো করবে এমন প্রত্যাশায় বিদায় জানাই প্রিয় দলকে। 

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ