ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​মিয়ানমার সীমান্তে ১০৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৬:৫১:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৬:৫১:৫৪ অপরাহ্ন
​মিয়ানমার সীমান্তে ১০৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ ​ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ক্রমাগত ঢাকার নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এ কারণে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে মিয়ানমারের সঙ্গে থাকা ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তের কিছু অংশে বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিবেশী কোনো দেশের সীমান্তে এই প্রথম এ ধরনের স্থায়ী নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকাটি ঢাকার কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর আগে গত মাসে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ প্রতিরোধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ঠিক কোন কোন পয়েন্টে বেড়া দেওয়া হবে, তা এখনো প্রকাশ করেনি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ জান্তা সরকারের কাছ থেকে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) হাতে চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারের ওপারে এখন আর প্রচলিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর নেই। ফলে সেখানে এক ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশকে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে এখন পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ৪২৬ জনের বেশি বাংলাদেশি জেলেকে ওপার থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও বাকিরা এখনো অপহরণকারীদের জিম্মায় রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সশস্ত্র ব্যক্তিরা জেলেদের ধরে নিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে।

এদিকে, এই সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মো. শহীদুল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কিছু মানুষ টাকার বিনিময়ে আরাকান আর্মিতে যোগ দিতে ওপারে চলে যাচ্ছে—এটি আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া এই রুট ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র দেশে ঢুকছে।

তিনি আরও বলেন, বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি একটি সমান্তরাল টহল সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর ফলে সীমান্ত নজরদারি আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

তার মতে, নাফ নদীর তীরবর্তী প্রায় ১২০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মিয়ানমার মাত্র ৭০ কিলোমিটার অংশে বেড়া নির্মাণ করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। নদীপথ এবং পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি ও বান্দরবান সীমান্ত এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই বেড়া নির্মাণ করা উচিত।

সূত্র : নিক্কেই এশিয়া।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ