ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​আবু সাঈদ হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি বাবার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০১:১০:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০১:১০:২৩ অপরাহ্ন
​আবু সাঈদ হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি বাবার ​ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)। আন্দোলনের উত্তাল সেই দিনটির স্মৃতি আজও অম্লান। তবে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মোহাম্মদ মকবুল হোসেনের কণ্ঠে এখন একটাই আর্তি— ছেলের হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চান তিনি।

বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী বৃদ্ধ বাবা মকবুল হোসেন পীরগঞ্জের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে আক্ষেপ ও প্রত্যাশার কথা তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘সরকার যে রায় ঘোষণা করেছে, তাতে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। তবে যে বিচারই হয়েছে, তা যেন অতি দ্রুত কার্যকর করা হয়। আমি বৃদ্ধ মানুষ, নিজের চোখে ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’

কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে এবং কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বৈষম্য দূর করে দেশ পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মকবুল হোসেন বলেন, ‘সবাই যেন সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার পায়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে প্রাণ হারান আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন তীব্রতর হয়, যা পরবর্তীতে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পথ সুগম করে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্তমান সরকার ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানা যায়, পিবিআইয়ের তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের ফাঁসি এবং তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদের ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার রায় দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কবর জিয়ারত, শোক র‍্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতি তোরণ, জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে এবং শীঘ্রই তা দৃশ্যমান হবে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ