ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাইন লিকেজ থাকায় বাড়ছে অপচয়

বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার গ্যাস চুরি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ১১:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ১১:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন
বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার গ্যাস চুরি ফাইল ছবি
তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও বছরে চুরি আর অপচয় হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকার গ্যাস। জ্বালানি বিভাগের লক্ষ্য, সিস্টেম লস ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা। কিন্তু বিতরণ কোম্পানিগুলো ব্যর্থ হওয়ায় এখনো এ লোকসান ৯ শতাংশের বেশি। তিতাস গ্যাস বলছে, লক্ষ্য পূরণে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি লিকেজ বন্ধে পাইপাইন রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর ধানমন্ডি, গোড়ান, ডেমরা ও মাতুয়াইল এলাকায় রয়েছে একাধিক গ্যাস লাইনের লিকেজ। স্থানীয়রা বলছেন, তিতাস গ্যাস এর ডিসট্রিবিউশন লাইনে লিকেজ রয়েছে। আর এ লিকেজ সারানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও তারা তা করেনি। এতে করে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে গ্যাস অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে রয়েছে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি।

সাভারের আশুলিয়া এলাকার রপ্তানীমুখী একটি স্পিনিং মিল। গ্যাসের চাহিদামাফিক চাপ আর সরবরাহ না থাকায় একটি জেনারেটর বন্ধ, অন্যটি চলছে অর্ধেকেরও কম সক্ষমতায়। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। জ্বালানি সংকটে এভাবেই ধুঁকছে দেশের বেশির ভাগ শিল্প কারখানা। অন্যদিকে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ।

নারায়নগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ এলাকায় রফতানিমুখী একটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ চলমান রয়েছে। ঐ প্রতিষ্ঠানের মেশিনপত্র বাড়ানোর কারণে অতিরিক্ত গ্যাস চেয়ে তিতাসের কাছে আবেদন করলেও গত তিন বছরে তা বর্ধিত করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে ঐ প্রতিষ্ঠানে মেশিন স্থাপন করতে গিয়ে ব্যাংক লোনের সুদের টাকা গুনতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন লোকসানের মুখে পড়েছে। 

সংকটময় এই অবস্থার উল্টো পিঠে আছে আরেক করুণ বাস্তবতা। গ্রাহক যখন ভুগছে গ্যাসের তীব্র সংকটে, তখন নানা উপায়ে উড়ে যাচ্ছে মূল্যবান এ জ্বালানি সম্পদ। চুরি, অবৈধ সংযোগ, জরাজীর্ণ পাইপলাইনের কারণে সিস্টেম লসের নামে বছরে যে পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে, তার মূল্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। আর এ লোকসান কমাতে নানা লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হলেও তা পূরণে ব্যর্থ বিতরণ কোম্পানিগুলো। যে কারণে এখনো সিস্টেম লস ৯ শতাংশের বেশি। অথচ কথা ছিলো তা ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা।
 
সবচেয়ে বড় বিতরণ প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস বলছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জোর দেয়া হচ্ছে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও পাইপলাইন মেরামতে।
 
তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শাহজাদা ফরাজী বলেন, অবৈধ সংযোগ রুখতে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া লিকেজ মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ চলছে। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।
 
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল আমলাতান্ত্রিক নির্দেশনা কিংবা লক্ষ্যমাত্রা নয়, সিস্টেম লস কমাতে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে চুরি ঠেকাতে তদারকি করতে হবে। একইভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে পারলে রফতানি আয় বাড়বে।  
 
করজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, আইনে যার যা দায়িত্ব তা পালনে কোনো রকম শিথিলতা দেখালে চাকরি থাকবে না। এই জায়গায় সরকারকে ফিরে আসতে হবে। জ্বালানি বিভাগ তার উদাহরণ হতে পারে। বর্তমানে দেশে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি চাহিদা থাকলেও জোগান দেয়া যাচ্ছে মাত্র ২৬০০ থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সেই সঙ্গে জ্বালানি বিভাগকেও বিতরণী কোম্পানি গুলোর উপর কঠোর নজরদারি করতে হবে। 

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ