ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক, রেল ও নৌপথে এক হাজার ৩৩৬ জন আহত

তিন পথে দুর্ঘটনায় ৫১৩ মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০৩:৩৮:৩০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০৩:৩৮:৩০ অপরাহ্ন
তিন পথে দুর্ঘটনায় ৫১৩ মৃত্যু ফাইল ছবি
দেশে গত জুন মাসে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত এবং এক হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও আটজন আহত এবং নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৯০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫১৩ জনের, আহত হয়েছেন এক হাজার ৩৩৬ জন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

সংগঠনের দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরে। সংগঠনটির দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এর চেয়ে আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহতের হার ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং আহতের হার ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৬ জনের এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, একজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাবাহিনীর সদস্য, একজন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং নয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সময়ে দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৯৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ নছিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে, ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বিভিন্ন কারণে, শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

অন্যদিকে, মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে, ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব, মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া ও বিরামহীন গাড়ি চালানো, বৃষ্টিতে সড়কে গর্ত সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য বাস ও ট্রাকের ছাদে যাত্রী পরিবহনকে দায়ী করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১১ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, উন্নত বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া, জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস সনদ দেওয়ার পদ্ধতির আধুনিকায়ন, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ট্রেনিং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরিবহন খাতে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।

প্রতিবেদনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর সড়কে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি রোধে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে আমলাদের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং সড়ক নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ই-প্রসিকিউশন চালু এবং যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ