ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ১০ দেশের নতুন জোট

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০২:১৯:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০২:১৯:২৩ অপরাহ্ন
ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ১০ দেশের নতুন জোট ছবি : সংগৃহীত
ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ইউরোপকে রক্ষা করতে নতুন একটি প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ইউক্রেনসহ ইউরোপের মোট ১০টি দেশ। গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের যে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, তা এই জোটে কাজে লাগানো হবে। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ফ্র্যান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ১০ দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতিতে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পুরো ইউরোপের সুরক্ষায় একটি যৌথ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”

ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং মহাদেশটিতে মস্কোর ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তারের আশঙ্কার মুখে, প্রায় দুই ডজন ইউরোপীয় নেতার কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহযোগিতা চেয়েছিলেন জেলেনস্কি। এরই ধারাবাহিকতায় ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই জোট গঠনে সম্মত হয়।

যৌথ বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, “ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোনের তুলনায় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কঠিন। আমরা এই ক্রমবর্ধমান হুমকিকে গভীরভাবে অনুধাবন করছি। ইউরোপকে সুরক্ষিত রাখতে একটি সমন্বিত ও সুসংহত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সফলভাবে নস্যাৎ করতে পারবে।”

বিবৃতিতে জোটের কার্যক্রম শুরুর সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা না হলেও জানানো হয়েছে, এই প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার পথ অন্যান্য দেশের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ও তার সহযোগী দেশগুলো আগামী ১২ মাসের মধ্যে যৌথভাবে একটি কম খরচের এবং ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম। এই ব্যবস্থা যেমন ইউরোপের নিজস্ব সুরক্ষার চাহিদা মেটাবে, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সুরক্ষায়ও সরবরাহ করা যাবে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই উদ্যোগের বিপরীতে কঠোর অনমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

রাশিয়ার তেল শোধনাগার, ট্যাংকার ও টার্মিনালগুলোতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুতিন। তেল অবকাঠামোগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার ফলে রাশিয়ায় বর্তমানে ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) মস্কোতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন বলেন, “তারা রাশিয়ার ভূখণ্ডে যেখানেই আঘাত করার চেষ্টা করবে, আমরা ঠিক সেভাবেই জবাব দেব, তবে আমাদের আঘাত হবে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী।"

এদিকে একই দিনে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথক একটি বৈঠকে বসেন। সেখানে ইউক্রেনের জরুরি সামরিক চাহিদা এবং ইউরোপের নিরাপত্তার প্রতি রাশিয়ার সামগ্রিক হুমকি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখেই তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে চান। কারণ প্রতি বছর শীতকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, পানি ও হিটিং ব্যবস্থা ধ্বংস করতে রাশিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র করে তোলে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজস্ব মাটিতে মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাকে কিয়েভের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও সামরিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তবে উৎপাদন শুরু করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে ইউরোপের এই নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ব্যবস্থাটি কত দ্রুত কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মূল লক্ষ্য হলো সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে রাশিয়াকে চাপে ফেলে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় বসতে বাধ্য করা। যদিও মার্কিন প্রশাসনের শান্তি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মস্কো এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি।

প্যারিস বৈঠক নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘যুদ্ধবাজ ও বিভ্রান্তদের জোট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পেসকভ বলেন, “তারা এই চরম ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে রয়েছে যে রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা সম্ভব। মূলত এরা যুদ্ধকে আরো উসকে দিতে চাইছে।”

তবে সামরিক বিশ্লেষক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক অবিশ্বাস্য অগ্রগতি যুদ্ধক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনছে। রাশিয়ার পেছনের সারির মূল রসদ ও সরবরাহ রুটে ইউক্রেনের নিখুঁত ড্রোন হামলার কারণে রুশ বাহিনী তাদের আক্রমণের গতি হারিয়েছে, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি এখন ধীর ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ