জাতিসংঘে এলডিসির পক্ষে ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরল বাংলাদেশ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৪-০৭-২০২৬ ০২:০৯:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৭-২০২৬ ০২:০৯:১৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) পক্ষে পাঁচ দফা অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় এলডিসিগুলোর মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে সহজ শর্তে অর্থায়ন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিকসংবাদ
স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন ছাড়া ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
বক্তব্যে ড. তিতুমীর ২০৩০ এজেন্ডা ও দোহা কর্মসূচির প্রতি এলডিসি গ্রুপের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই দুটি বৈশ্বিক কাঠামো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় সুষ্ঠু উত্তরণের পথনির্দেশক। ২০৩০ সালের সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, এসডিজি অর্জনের অগ্রগতি ততই লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, ঋণের বাড়তি চাপ, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হ্রাস, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বৈষম্য এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের সীমিত সুযোগ এলডিসিগুলোর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ শুধু এসডিজি বাস্তবায়নকেই নয়, ২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করার লক্ষ্যকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বর্তমানে ১৪টি এলডিসি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে।
ড. তিতুমীর জানান, এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; বরং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজন। আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং গৃহীত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলো হলো সহজ শর্তে উন্নয়ন অর্থায়ন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, সহজপ্রাপ্য ও পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, এলডিসিগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমানো।
বক্তব্যের শেষাংশে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এলডিসিগুলোর সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে টেকসই উন্নয়নের গতি পুনরুদ্ধার, পারস্পরিক আস্থা জোরদার এবং কাউকে পেছনে না রেখে উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি কার্যকর মোড় পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে এলডিসি গ্রুপ সব উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স