গ্যাসের মজুত কমছে, বিকল্প সীমিত
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৩-০৭-২০২৬ ০৩:১২:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৭-২০২৬ ০৩:১২:০০ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
দেশে গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েই চলেছে। সংকট মোকাবিলায় স্থল ও সমুদ্রে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের গতি ধীর।
১৯৯৮ সালে বিবিয়ানায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর দেশে আর কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজ মেলেনি। কিছু ছোট ক্ষেত্র আবিষ্কার হলেও সেগুলোর মজুত দেশের চাহিদার তুলনায় কম। ইরান যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট গ্যাসের মজুত ছিল ১২ দশমিক ২৬ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৫ টিসিএফে। দেশে বর্তমানে গ্যাসক্ষেত্র ২৯টি। এর মধ্যে ২০টি থেকে নিয়মিত গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। চারটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও সেগুলোকে এখনও উৎপাদনে আনা যায়নি। বাকি পাঁচটি ক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনে থাকা ২০টি গ্যাসক্ষেত্রে গত জানুয়ারিতে মজুত ছিল ছয় দশমিক ৩২১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। ছয় মাসের ব্যবধানে জুনে তা কমে প্রায় ছয় টিসিএফে নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫৮ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে।
পরিত্যক্ত পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র– ছাতক, সাঙ্গু, ফেনী, কামতা ও রূপগঞ্জে এখনও প্রায় ৬৬১ বিসিএফ গ্যাস রয়েছে। জকিগঞ্জ ও কুতুবদিয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও অবকাঠামোর অভাবে উৎপাদন শুরু করা যায়নি। আর ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাস আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের কার্যকর মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ আট বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। গ্যাসক্ষেত্রে শেষ পর্যায়ে চাপ কমে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস মাটির নিচে রেখেই খনি বন্ধ করতে হয়। বাণিজ্যিক বিবেচনায় তা উত্তোলনযোগ্য নয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত ২২ জুন সংসদে বলেন, সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ চলছে ও নতুন জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন ড্রিলিং রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সুত্র: সমকাল
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স