ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান কৌঁসুলি

​আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৬:৫৪:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৬:৫৪:৪০ অপরাহ্ন
​আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার শেখ হাসিনা ​ফাইল ছবি
ভারত থেকে প্রত্যর্পণ কিংবা অন্য যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরলেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তার আত্মসমর্পণ বা জামিনের কোনো সুযোগ নেই।

রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে অবস্থান করছেন। ফলে তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে আনা হলে সীমান্তে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে নির্বাসিত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরবেন বলেও উল্লেখ করেন।

এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।

প্রধান কৌঁসুলি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিনের সুযোগ নেই। এছাড়া রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে আপিল না করায় শেখ হাসিনা আপিলের অধিকারও হারিয়েছেন। ফলে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই।

তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ রয়েছে। তাই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশের কোনো সম্পদ ভোগ বা ব্যবহারের আইনগত সুযোগ তার নেই।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে শেখ হাসিনা শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মামলার তদন্তও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই এসব মামলার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রধান কৌঁসুলি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৫ সালে সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক আলোচিত ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ