পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়া সেই হাতিটি মারা গেছে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-০৭-২০২৬ ১২:৪৩:০৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৭-২০২৬ ১২:৪৩:০৭ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
টানা বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রবিবার ১১ (জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে এটি মারা যায়।
টানা বর্ষণে শনিবার (১১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় ২০-২৫ বছর বয়সী মা হাতিটি। ওপর থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ার সময় হাতিটি বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে পেছনের পা দুটি ভেঙে যায়। কেটে যায় পেটের কিছু অংশও। এই পাহাড়ে এশিয়ান জাতের অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে। খবর পেয়ে বন বিভাগের চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটিকে চিকিৎসা দেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ের চূড়ায় গাছ ও লতাপাতা খাওয়ার সময় সম্ভবত বৃষ্টির কারণে নরম মাটি ধসে হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ে। এতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পেট কেটে গেছে ও পা ভেঙে গেছে। এ কারণে হাঁটতে পারছে না। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট, উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট। বয়স ২০-২৫ বছর হবে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এরপর টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছিল। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। চিকিৎসক দল ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চলমান ভারী বর্ষণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের ঢাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় হাতিসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, শনিবার দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দের পর হাতির চিৎকার শুনে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি একটি মা হাতি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পেট থেকে রক্ত ঝরছিল, যন্ত্রণায় বারবার চিৎকার করছিল। দুটি পা ভেঙে গেছে বলেও মনে হচ্ছিল। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো গেলো না।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স