জর্ডান ও কাতারে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১২-০৭-২০২৬ ১১:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৭-২০২৬ ১১:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র করে জর্ডান ও কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হামলায় ঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে, আইআরজিসির আরেকটি বিবৃতিতে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলার কথাও জানানো হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই হামলায় একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ফলে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের আগাম নির্বাচন সামনে রেখে এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি জাহাজ অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেনি। এ কারণেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
আইআরজিসি আরও ঘোষণা দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার নীতি বহাল থাকবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলে থাকা ‘শত্রুপক্ষের নতুন ঘাঁটিগুলোও’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতি প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে হামলা শুরু হয়। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এ-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স