ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​মায়ের স্বীকারোক্তি, বাবা পলাতক

নির্জনাকে হত্যার নেপথ্যে 'একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক'

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-০৭-২০২৬ ০৩:০৮:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৭-২০২৬ ০৩:০৮:৪১ অপরাহ্ন
নির্জনাকে হত্যার নেপথ্যে 'একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক' ​ফাইল ছবি
মাত্র ১৬ বছর বয়সী আরফানা হোসেন নির্জনার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। নিজের মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, একাধিক ছেলের সঙ্গে নির্জনার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমীন সীমা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা আলীম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানান।

নির্জনা বাবা–মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। সে খুলনা সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ জানায়, নিহত নির্জনা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। সম্প্রতি অন্য একজনের সঙ্গে তার বাল্যবিবাহ হয়। তবে আগের সম্পর্কের ব্যক্তির সঙ্গে চলে যেতে চাইলে বাবা–মায়ের সঙ্গে কিশোরীর বিরোধ হয়। 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে মা ও মেয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আরিফা ইয়াসমীন সীমা মেয়েকে চড়-থাপ্পড় দেন। পরে পাশের কক্ষ থেকে বাবা আলীম হোসেন আকাশ একটি কাঠের ফালি এনে আঘাত করলে সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। 

এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি গলিতে ফেলে রাখা হয়।

জবানবন্দিতে নির্জনার মা দাবি করেন, তার স্বামী কাঠের ফালি দিয়ে শরীরে আঘাত করতে চেয়েছিলেন। তবে সেটি দুর্ঘটনাবশত মাথায় লেগে যায়। শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বাবা ও মাকে আসামি করে মামলা করেছে। মা আরিফা ইয়াসমীন সীমাকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাবা আলীম হোসেন আকাশ এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দাবি, হত্যার পর আরফানার মরদেহটি কবুতরের খাবার বহনে ব্যবহৃত বস্তায় ভরা হয়। এরপর বস্তাটি মোটরসাইকেলে নিয়ে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে আসেন তার বাবা।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা সদর থানার পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করে। পরে কিশোরীর মা গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন।

মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করল খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম এম শাকিলুজ্জামান, উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) রেজাউর রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম, খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ