স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১১-০৭-২০২৬ ০১:৪৯:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১১-০৭-২০২৬ ০১:৫০:৪০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই শুধু ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা নয়, রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক ও সুন্দর আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধু একটি চাকরি বা দায়িত্ব নয়, এটি মানুষের জীবন রক্ষার মহান সেবা। একজন মানুষ যখন কঠিন অসুস্থতার মধ্যে থাকেন, তখন আল্লাহর পর চিকিৎসকের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন। তাই চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধও ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জীবনে শুধু গ্রহণ নয়, মানুষের জন্য কিছু দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নিজের ব্যাংকিং জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, কর্মজীবনের শুরুতে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি বুঝেছেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ ও তৃপ্তি রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও মোরাল এথিকস আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। একজন চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর চিকিৎসার ফলাফলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যার সময় দেশের চিকিৎসকরা দায়িত্ব ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। অনেক চিকিৎসক ছুটি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাত পর্যন্ত চিকিৎসকদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাই চিকিৎসকদের প্রকৃত দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার উদাহরণ।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ও কার্যকর করে গড়ে তোলা হবে। আগামী মাস থেকেই এসব উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে দেশের সব মানুষের জন্য সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মানুষের মতো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সমান মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একই ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে।
তিনি চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা, পেশাগত নৈতিকতা ও রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের পাংচুয়ালিটি ও মেডিকেল এথিকস বজায় থাকলে তারা দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে সম্মানিত ও শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত হবেন।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স