ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে কলাপাড়ায় সবজির ফলন্ত গাছে পচন ধরার শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-০৭-২০২৬ ০৭:০৫:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৭-২০২৬ ০৭:২২:০৮ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টিতে কলাপাড়ায় সবজির ফলন্ত গাছে পচন ধরার শঙ্কা ফোকাস বাংলা নিউজ
ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কয়েক হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছেন। অধিকাংশ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খাল-বিল, কৃষিজমি সব পানিতে থৈ থৈ করছে। মানুষের চাষ করা অন্তত ৪৫০টি ছোট-বড় পুকুরসহ মাছের ঘের ডুবে গেছে। প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কার কথা জানা গেছে উপজেলা মৎস্য অফিসসূত্রে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন বেড়িবাঁধের বাইরের জনগোষ্ঠী। একেতো টানা বৃষ্টি তার উপরে জোয়ারের হানায় এসব মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। টানা বৃষ্টিতে চরম ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন গ্রীষ্মকালীণ সবজি চাষীরা। অন্তত এক হাজার একর জমিতে আবাদকরা ফলনধরা সবজিক্ষেতের গোড়ায় পচন ধরার শঙ্কায় তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

কুমিরমারা গ্রামের সবজি চাষী কৃষক সুলতান গাজী জানালেন, গ্রামটির অধিকাংশ কৃষক পরিবার ক্ষেতের করলা, ঝিঙে, লাউ, চিচিঙ্গা, দুন্দল, শসা বিক্রি শুরু করেছেন। গত ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে এখন গোড়ায় পচন ধরার শঙ্কা করছেন তারা। জানালেন এই চাষী, কেউ বিক্রি শুরু করেছেন। কেউবা শুরু করবেন, এমন সময় বৃষ্টির ধকলে চরম শঙ্কায় পড়েছেন। এখন দুই-এক দিনে বৃষ্টি না থামলে ক্ষেতের ফলন ধরা গাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব হবে না বলে অধিকাংশ চাষীর মতামত।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আরাফাত হোসেন জানালেন, তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরামর্শ দিয়েছেন গোড়ায় পচন না ধরার জন্য স্প্রে করার। তবে নীলগঞ্জের অধিকাংশ কৃষক জমি অনেক উচু করে সবজির আবাদ করেছেন। এছাড়া স্লুইসগুলো কৃষকের নিয়ন্ত্রণে থাকায় খাল-বিলে পানি জমলেও সবজির ক্ষেত এখনো ডুবেনি।

মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী ফজলুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নে আন্ধারমানিক নদীর তীরের নিজামপুরে প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধে প্রবলভাবে ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ভাঙনের মাত্রা আরও বেড়েছে। একই দশায় পড়েছেন ধানখালী ও চম্পাপুর ইউনিয়নের মানুষ। দেবপুর, করমজাতলা, গন্ডামারির বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় এমন শঙ্কায় পড়েছেন সেখানকার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহআলম জানান, চার-পাঁচটি পয়েন্টে জরুরি প্রটেকশন দেয়া হয়েছে। তারপরও তিন থেকে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এখনো ঝুকিপূর্ণ রয়েছে।

তবে প্রবল বৃষ্টিতে কলাপাড়া পৌরসভা, টিয়াখালী ইউনিয়ন, নীলগঞ্জ, চাকামইয়া, লালুয়া, কুয়াকাটা পৌরসভা, লতাচাপলী ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় মানুষ অপরিকল্পিতভাবে পানি চলাচলের ড্রেনেজ খাল ভরাট-দখল করে বাড়িঘর পুকুর করায় এমন দুরবস্থা দেখা দিয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান জানান, খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত কৃষকের সমস্যা ও বিভিন্ন জায়গার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্লুইসগেট যথাযথ নিয়ন্ত্রণে ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ