বন্ধ পাটকলে আসছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-০৭-২০২৬ ০৫:১২:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-০৭-২০২৬ ০৫:১২:৫৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দীর্ঘদিনের অচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বন্ধ পাটকলে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের কাছে লিজ হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অলস পড়ে থাকলে তা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ মিলগুলোকে আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, নতুন বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উৎপাদন সম্ভব হবে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সয়াবিন বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, সরকার সরাসরি শিল্প পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে আগ্রহী। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি ও যৌথ মালিকানাসহ বিভিন্ন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম চালু হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রপ্তানি আয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং নতুন শুল্কনীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তাদের ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ধীরে ধীরে ম্যানমেড ফাইবার ও উচ্চমূল্যের ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের মোট ৭৭ দশমিক ০২ একর জমির মধ্যে এর আগে ৩৪ দশমিক ৫০ একর জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে এবং প্রায় ৩ হাজার ২০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজ দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিজেএমসি, বিটিএমসি এবং অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হায়দার বলেন, সরকারের এই কর্মসূচির আওতায় গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে বাড়িয়ে ৫০ টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং উৎপাদিত সব পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী ধাপে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক ৩ হাজার টন সক্ষমতার একটি সিড ক্রাশিং প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসির সহযোগিতায় বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্প থেকে সয়াবিন তেল ও সয়া মিল উৎপাদনের পাশাপাশি আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স