ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ , ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিশরের গোল বাতিলকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলছেন সাবেক রেফারি

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:৪৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ০১:০১:১৩ অপরাহ্ন
মিশরের গোল বাতিলকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলছেন সাবেক রেফারি ছবি : সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচের পর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকোর ৫৮তম মিনিটের বাতিল হওয়া গোল। অনেকের মতে, ভিএআরের সেই সিদ্ধান্তই মিশরের সম্ভাব্য ঐতিহাসিক জয়কে কেড়ে নিয়েছে।

মঙ্গলবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছিল মিশর। ১৫তম মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৫৮তম মিনিটে মোস্তাফা জিকো দ্বিতীয় গোল করলে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। সেই সময় স্কোরলাইন ছিল ২-০, যা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।

তবে গোলের কিছুক্ষণ পরই ভিএআর রিভিউয়ের মাধ্যমে গোলটি বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের বিল্ড-আপে মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জার্সি টানেন এবং তার পায়ে হালকা চাপ পড়ে। রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে ফুটেজ দেখে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন এবং গোলটি বাতিল করেন।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রিমিয়ার লিগের সাবেক ইংলিশ রেফারি গ্রাহাম স্কট তার বিশ্লেষণে বলেছেন, ঘটনাটি ছিল স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই এবং এটি কোনোভাবেই এমন ফাউল নয়, যার জন্য ভিএআর হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল।

স্কটের মতে, ঘটনাটি গোলের প্রায় ১০০ গজ দূরে ঘটেছিল এবং এরপর আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিজেদের সংগঠিত করার যথেষ্ট সময় পেয়েছিল। তাই এটিকে ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ‘মিশরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এটি ভিএআরের ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার।’

তবে একই সঙ্গে ম্যাচের শেষদিকে মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টির দাবিও তিনি সমর্থন করেননি। তার মতে, সেই ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়াই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।

গোল বাতিল হলেও ৬৭তম মিনিটে আবারও জালে বল জড়ান মোস্তাফা জিকো এবং এবার কোনো বিতর্ক ছাড়াই মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু শেষ ১৩ মিনিটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা। টানা তিনটি গোল করে তারা ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে জিকো বলেন, ‘রেফারির সিদ্ধান্ত মোটেও ন্যায্য ছিল না। আমরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু একটি সিদ্ধান্ত আমাদের সব পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা সমর্থকদের আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি।’

এই বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে এখনও আলোচনা চলছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, যদি জিকোর প্রথম গোলটি বহাল থাকতো, তাহলে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের সাক্ষী হতে পারতো ফুটবল বিশ্ব।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ