ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​চাঁদপুরে ইলিশের আমদানি কম, চড়া দামে হতাশ ক্রেতারা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৬ ০৫:২৩:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-০৭-২০২৬ ০৫:৩২:২৩ অপরাহ্ন
​চাঁদপুরে ইলিশের আমদানি কম, চড়া দামে হতাশ ক্রেতারা ​ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের আমদানি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বর্তমানে স্থানীয় জেলেদের জালে ধরা পড়া ইলিশের দাম এতোটাই চড়া যে, তা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই বাজারে এসে অনেক ক্রেতা দরদাম করে ইলিশ না কিনেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। 

বাজারে এখনো ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। এর ওপর দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, বাজারে আমদানি বাড়লে দাম কিছুটা কমবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে ইলিশের বাজারের এই চিত্র দেখা গেছে। আড়ত ঘুরে দেখা যায়, এখন আর সড়ক ও নৌ পথে দক্ষিণাঞ্চল থেকে কোনো ইলিশ আসছে না। শুধুমাত্র স্থানীয় পদ্মা-মেঘনা নদীর ইলিশ আড়তে আসছে, তাও পরিমাণে অত্যন্ত কম।

সদরের আনন্দ বাজার এলাকার জেলে ইসমাইল জানান, নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া গেলেও তা সংখ্যায় খুবই কম, তবে সাথে অন্য মাছ মিলছে। বহরিয়া এলাকার জেলে জাহাঙ্গীর ঢালী বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও অন্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের আমদানি কম। তবে বাজারে ৬০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছঘাটের আড়তদার মো. ইব্রাহীম জানান, ইলিশের সাথে এখন পাঙ্গাশ মাছও ধরা পড়ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের সরবরাহ কম। অবশ্য গত বছরের তুলনায় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। একই আড়তের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সৈয়াল জানান, দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা ইলিশ না কিনেই চলে যাচ্ছেন। গত বছর যেখানে ইলিশ আসা মাত্রই বিক্রি হয়ে যেত, এবার সেখানে লোকাল চাহিদা মিটিয়ে অনেক আড়তের ইলিশ শহরে পাঠানো হচ্ছে।

মাছঘাটে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা শাহাবুদ্দিন মিজি জানান, দাম না কমায় তিনি দরদাম করে মানানসই দামে কেনার চেষ্টা করছেন। শহরের নতুন বাজার থেকে আসা আরেক ক্রেতা আব্দুল বারেক আক্ষেপ করে বলেন, মাছঘাটে এসে দাম দেখে চলে যেতে হয়। কারণ ১ কেজি ইলিশের দাম দিয়ে ৩ কেজির বেশি গরুর মাংস পাওয়া যায়। চাঁদপুরে থেকেও চড়া দামের কারণে আমরা ইলিশের স্বাদ নিতে পারছি না।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বাজারের সঠিক দর উল্লেখ করে বলেন, আষাঢ় মাসে ইলিশের আমদানি খুবই কম। জ্যৈষ্ঠ মাসে যেখানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ আমদানি হতো, সেখানে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ থেকে ২০ মণ ইলিশ আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে। বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক অবশ্য জানান, ইলিশের সংখ্যাগত আমদানি কমেনি, তবে জেলেদের জালে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন ও সাইজ ছোট। এই কারণে ওজনের দিক থেকে উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেলেও তা খুব বেশি নয়।

তিনি আরও বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির কারণে গত কয়েক বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। নদীর প্রবাহ ঠিক থাকলে তা আরও বাড়বে। তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদীতে ডুবোচর ও খাদ্যের সংকটসহ নানা কারণে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ এখন কিছুটা কমে গেছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ