কলাপাড়ায় আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কোটি টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার উধাও
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৯-০৬-২০২৬ ০৪:০২:১২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৬-২০২৬ ০৪:০৯:১৭ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। এই ঘটনায় আজ সোমবার সকাল থেকে পুঁজি হারানোর শঙ্কায় কয়েকশ’ গ্রাহক ব্যাংকের আউটলেট শাখাটি ঘেরাও কওে রেখেছেন। ব্যাংকের স্থানীয় এজেন্ট বলেন, তারা গ্রাহকদের তালিকা তৈরি করছেন। তাদের মূলধন ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার কে খুঁজে পাচ্ছেন না ব্যাংক ম্যানেজার। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ থাকায় সন্দেহ বাড়তে থাকে। গ্রাহকরা ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে দেখে এসে দেখেন তাদের একাউন্টে টাকা নাই। মুহুর্তের মধ্যেই ব্যাংকের প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের কাছে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে।
টাকা উত্তোলন করতে এসে গ্রাহকরা শূন্য হাতে ফিরে যাওয়ার খবর শুনে রবিবার গ্রাহকদের ভিড় বাড়ে। সোমবার শতশত গ্রাহক তাদের ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ব্যাংকের এজেন্ট এর কাছে শরণাপন্ন হলেও তিনি তাদের কোন ফয়সালা দিতে পারেননি। শুধু গ্রাহকদের টাকা নয়, ব্যাংকের মাদার একাউন্ট শূন্য করেও টাকা তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রাহক মোসাম্মৎ তানজিয়া জানান, তার স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো তিন লাখ ২৮ হাজার এবং নিজের জমা রাখা এক লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে মোট চার লাখ ৩৮ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ছিল। এখন অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ১৫৫৩ টাকা। বাকি টাকা উধাও।
লস্করপুর গ্রামের রাহিমা বেগম বলেন, ‘তার স্বামী মালয়েশিয়া থাকেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ফিক্সট ডিপোজিট করেছেন। তাকে সব কাগজও দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকে এসে দেখেন তার টাকা ব্যাংকে জমা হয়নি। তাকে যে কাগজ দেয়া হয়েছে সব ভুয়া।
গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, তাদের এক লাখ থেকে ৭ লাখ, এমনকি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা আছে। তাদের কাছে সব ধরনের কাগজও আছে। কিন্তু এখন তাদের অ্যাকাউন্ট খালি। ব্যাংকের এজেন্ট এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও তিনি কোন ফয়সালা দিতে পারেননি। উল্টো তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
গ্রাহকরা আরো অভিযোগ করেন, তারা ব্যাংকে একাউন্টের খোঁজ নিতে আসায় ব্যাংকের এজেন্ট এর ছেলে সাকিব তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন। ব্যাংক থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন সাকিব।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব বলেন, ‘ঠিক কত টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার উধাও হয়েছেন যে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার না। তদন্ত করছেন। তার ব্যাংকের মাদার অ্যাকাউন্টও খালি। তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করছেন।
এবিষয়ে নিখোঁজ ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহিম বাদশা বলেন, তার ছেলেকে গত বৃহস্পতিবার থেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এভাবে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবে সেটা তারা জানেন না। তবে যদি সে টাকা নিয়ে থাকে তারা চেষ্টা করবেন তা ফিরিয়ে দিতে।
গ্রাহকসহ এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন এ ঘটনার সাথে ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার রাহাত ও ব্যাংকের এজেন্টের লোকজন জড়িত। সঠিক তদন্ত হলে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসবে। এজন্য তারা প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন। তবে এ বিষয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় পুলিশ এ ঘটনায় মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স