উগান্ডার একাধিক শীর্ষ গণমাধ্যম বন্ধ ঘোষণা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৯-০৬-২০২৬ ১২:২৩:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৬-২০২৬ ১২:২৩:০৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
সামরিক বাহিনীর নির্দেশে আফ্রিকার দেশ উগান্ডার শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি স্বাধীন গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমগুলো নেশন মিডিয়া গ্রুপের অংশ, যা পূর্ব আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম সংস্থা।
ডেইলি মনিটর পত্রিকা জানিয়েছে, রাজধানী কাম্পালায় তাদের সদর দপ্তরের বাইরে সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং এনটিভি ও স্পার্ক টিভি উভয়কেই সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী কারণে এই দমন চালানো হচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এর আগে, ৪০ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির পুত্র সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা একাধিক টিভি স্টেশন, সংবাদপত্র এবং রেডিও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে জেনারেল কাইনেরুগাবা লিখেছেন, আমি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমে বিশ্বাস করি না। সংবাদমাধ্যম বিপ্লবের ক্যাডারদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত।
বিরোধী দল ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জেনারেল কাইনেরুগাবাকে তার বাবার নেতৃত্বাধীন অত্যন্ত দমনমূলক শাসনের মূল ব্যক্তিত্ব বলে অভিযুক্ত করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সমর্থকদের দাবি, তারা উগান্ডায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছেন এবং তাদের শাসনামলে অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে।
৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি একজন সাবেক বিদ্রোহী নেতা, যিনি প্রায় ৪০ বছর আগে অভুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন।
জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি রেকর্ড সপ্তমবারের মতো জয়ী হয়েছেন। এখন ব্যাপকভাবে গুঞ্জন আছে, তিনি তার ছেলেকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করছেন।
জেনারেল কাইনেরুগাবা এক্সে লিখেছেন, তার পিতা ইচ্ছামতো যেকোনো মিডিয়া হাউস বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, আমার অনুমতি ছাড়া এনটিভি ও ডেইলি মনিটর পুনরায় চালু হবে না। এখন থেকে উগান্ডার সমস্ত গণমাধ্যম নিয়ম মেনে চলবে।
ডেইলি মনিটর এক্সে জানিয়েছে, রবিবার ভোররাতে এক দমনমূলক অভিযানে সংবাদপত্রটি এবং এর সহযোগী প্রকাশনাগুলোকে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিজেদের ওয়েবসাইটে খবরটি প্রকাশ করে ডেইলি মনিটর বলেছে, কর্মীদের কাউকে ভবনের চত্বরে প্রবেশ বা বের হওয়ার করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে এনটিভি উগান্ডা এবং স্পার্ক টিভির দর্শকরা খালি স্ক্রিন দেখতে পাচ্ছিলেন।
বছরের পর বছর ধরে মুসেভেনি বারবার ডেইলি মনিটরের সমালোচনা করেছেন। হাউজটির সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার জন্য এটিকে শত্রু ও দুষ্ট সংবাদপত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি।
উগান্ডার ন্যাশনাল ব্রডকাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই অচলাবস্থা সংবিধানের লঙ্ঘন হওয়ায় তারা সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে।
বর্তমানে নির্বাসনে থাকা পরাজিত বিরোধীদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ববি ওয়াইন বলেছেন, জেনারেল কাইনেরুগাবা উগান্ডার অবশিষ্ট স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এক্সে তিনি লিখেছেন, এটাই এখন আমাদের কঠিন বাস্তবতা—প্রকাশ্য সামরিক শাসনাধীন একটি দেশ, যেখানে আইনের জায়গায় ভয় এবং জবাবদিহিতার জায়গায় শক্তি কাজ করে।
জানুয়ারির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সময় জেনারেল কাইনেরুগাবা পরবর্তীতে মুছে ফেলা কিছু পোস্টে ববি ওয়াইনের অণ্ডকোষ কেটে ফেলার হুমকি দিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন।
নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সমাবেশগুলো ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী সময়ে সময়ে গুলিও চালায়।
জাতিসংঘ বলেছে, রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও ভীতি প্রদর্শনের আবহে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যদিও সরকারি নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল।
সূত্র: বিবিসি
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স