নিষিদ্ধ রিং জালের দৌরাত্ম্যে হুমকিতে হাওরের মাছ ও জীববৈচিত্র্য
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৫-০৬-২০২৬ ০৬:৩৪:০৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-০৬-২০২৬ ০৬:৩৫:২৮ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
দেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল। বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে ব্যবহার বেড়েছে নিষিদ্ধ রিং জালের, যা স্থানীয়ভাবে ‘চায়না দুয়ারী জাল’ নামে পরিচিত। জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ জালের ব্যবহার। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ, মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া এবং হাওরের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিকলী উপজেলার নানশ্রী বেড়িবাঁধ, ছাতিরচর হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এই নিষিদ্ধ জাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই অবাধে চলছে এ জালের ব্যবহার। কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি নির্বিচারে মাছ শিকার করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রিং জালের ব্যবহার বাড়ার কারণে প্রতিবছরই হাওরে মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এর ফলে মাছের উৎপাদনও কমছে। বাজারে মাছের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় হাওরে প্রচুর পরিমাণে বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলা, মৃগেল, বাউশ, শোল, শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, পুঁটি ও মলা মাছ পাওয়া গেলেও এখন আগের মতো এসব মাছ আর দেখা যায় না। অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ দিন দিন বিরল হয়ে পড়ছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রিং জাল অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি মাছ ধরার উপকরণ। এ জালে একবার মাছ প্রবেশ করলে বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে বড় মাছের পাশাপাশি মাছের পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছ এবং বিভিন্ন প্রজাতির ছোট জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং হাওরের মৎস্যসম্পদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার শুধু মাছের জন্যই নয়, পুরো হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ জালে মাছের পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে মারা যায়। ফলে হাওরের প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা যেমন কমে যাবে, তেমনি হাওরের অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও সংকটের মুখে পড়বে। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ এ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হচ্ছে। তবে বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল এবং জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স