ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজৈরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ০৩:০৫:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ০৩:০৫:৫৪ অপরাহ্ন
রাজৈরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন ফোকাস বাংলা নিউজ
মাদারীপুর জেলার রাজৈরে একদিকে  তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে  জনজীবন অতবষ্ট অপরদিকে  পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন  লোডশেডিংয়ে  মানুষের ভোগান্তি এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। বর্তমানে রাজৈর উপজেলা সদর ও টেকেরহাট বন্দর সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে গড়ে ‘এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে, এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে’ অবিন্যস্ত ও চরম ভোগান্তিকর নিয়মে চলছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মমান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে রাতের বেলা। রাতের বেলায় দীর্ঘ এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পর যখন বিদ্যুৎ আসে, তখন তা মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এরপর গ্রাহকদের কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়েই পুনরায় বিদ্যুৎ চলে যায় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন থাকে। তীব্র গরমে রাতের ঘুম হারাম হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ, হতাশা ও চরম অশান্তি বিরাজ করছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী টেকেরহাটের ব্যবসায়ী বিনয় দেবনাথের অভিযোগ করেরবলেন, একদিকে পারদ ছুঁইছুঁই তীব্র তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই চরম ‘লুকোচুরি’ খেলায় ঘরের শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়ির ফ্রিজে রাখা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে টেকেরহাট বন্দর এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি উপজেলার সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অতি জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। 

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই চরম ও অসহনীয় সংকটের বিষয়ে টেকেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ আনসার উদ্দিন বলেন,  বিদ্যুতের এই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের পেছনের প্রকৃত কারণ ও গ্রিডের সীমাবদ্ধতা।
তিনি বলেন, “রাজৈর উপজেলা ও উপজেলার সংলগ্ন এলাকায় এই মুহূর্তে বিদ্যুতের মোট চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৪ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে আমরা জাতীয় গ্রিড থেকে দৈনিক বরাদ্দ পাচ্ছি মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট”। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

রাতের বেলায় ১০/১৫ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পর আবারও চলে যাওয়ার কারিগরি কারণ ব্যাখ্যা করে ডিজিএম মোঃ আনসার উদ্দিন আরো জানান, চাহিদা ও প্রাপ্তির এই বিশাল ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে এক একটি ফিডার ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক এই রোস্টার বা লোডশেডিং ম্যানেজমেন্ট করার পরও সরবরাহ প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম থাকায় বিদ্যুৎ আসার পরপরই লাইনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে তা আবার ট্রিপ বা বন্ধ করতে হচ্ছে। হাসপাতাল বা জরুরি এলাকাগুলোতে কিছুটা কনসিডার বা ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সামগ্রিক ঘাটতি এতই বেশি যে, রাত-দিনের এই বিপর্যয়  থেকে গ্রাহকদের পুরোপুরি স্বস্তি দেওয়া স্থানীয় অফিসের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ