ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৮-০৬-২০২৬ ০৭:১০:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৬-২০২৬ ০৭:১০:১৫ অপরাহ্ন
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে বিজেপি নেতা ভারত সিংসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক নেতাসহ অন্তত তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন নিহতদের স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায় ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ট্রাক দিয়ে একটি ফরচুনার এসইউভিকে ঘিরে ফেলে তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গাড়ির ভেতর থেকে স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং ওরফে লাল্লা সিংসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) গভীর রাতে সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত বিজেপি নেতার পরিবার বলেছে, বালু মহাল পরিচালনা সংক্রান্ত একটি বিরোধের মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন ভারত সিং। তবে তিনি আসলে সুপরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মন্নু ত্রিপাঠী। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার বালু মহালের ইজারা পেয়েছিল ভারত সিংয়ের পরিবার। এরপর সোনহাত, কৈলাশপুর, তেলিমুদা, বেলিয়া ও ছিংগুরায় বালু পরিবহন এবং খনি সংশ্লিষ্ট অবৈধ চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম বিরোধ শুরু হয়। ভারত সিংয়ের পক্ষ এবং আরেক বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে এই বিরোধ কয়েক মাস ধরে চলছিল।
ত্রিপাঠী পরিবারের বেশ কিছু ট্রাক ছিল। এসব ট্রাক বৈকুণ্ঠপুরে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। বালু উত্তোলনের টাকা এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। খনি সংক্রান্ত এই বিরোধ একপর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, হুমকি ও আধিপত্যের লড়াইয়ে রূপ নেয়।
মঙ্গলবার রাতে এই সংঘাত সবচেয়ে নির্মম রূপ ধারণ করে। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘ভারত সিং ও তার সঙ্গীরা যে ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন, সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসইউভিটির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।’
গাড়ির ভেতরেই জ্যান্ত পুড়ে মারা যান ভারত সিং। এই হামলায় নিহত অন্য দুজন হলেন- বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং। মায়াঙ্ক সিং নামের আরেক আহত ব্যক্তি বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কোরিয়া জেলার ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। দুই পক্ষের মধ্যে আগের বিরোধের কথা জানা থাকলেও পরিস্থিতি কীভাবে এমন ভয়াবহ রূপ নিল তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।’
সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, ‘কোরিয়া জেলার ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দোষী সাব্যস্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স