ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​রবিন হুডের আশ্রয়স্থল ‘মেজর ওক’ গাছটি মারা গেছে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ০৩:০১:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ০৫:১৮:৫৩ অপরাহ্ন
​রবিন হুডের আশ্রয়স্থল ‘মেজর ওক’ গাছটি মারা গেছে ​ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ডের শেরউড অরণ্যে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ‘মেজর ওক’ গাছটি মারা গেছে। রবিন হুডের কিংবদন্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন ওক গাছটির বয়স প্রায় ১ হাজার ২০০ বছর বলে ধারণা করা হতো।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানিয়েছে, চলতি বসন্তে গাছটিতে কোনো নতুন পাতা গজায়নি। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে ঐতিহাসিক গাছটি আর জীবিত নেই। 

নটিংহ্যামশায়ারের শেরউড অরণ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই গাছটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। লোককাহিনি অনুসারে, কিংবদন্তির নায়ক রবিন হুড ও তার সঙ্গীরা এই বিশাল গাছের ছায়াতেই আশ্রয় নিতেন।

আরএসপিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বিপুলসংখ্যক পর্যটকের পদচারণার কারণে গাছটির চারপাশের মাটির স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ধীরে ধীরে এর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে।

বৃক্ষ সংরক্ষণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান দ্য উডল্যান্ড ট্রাস্টও মনে করছে, অতিরিক্ত পর্যটন চাপ গাছটির মৃত্যুর অন্যতম কারণ। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ সংরক্ষণ উপদেষ্টা এড পাইনে বলেন, মেজর ওকের পতন আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আজ আমরা প্রাচীন গাছগুলোর সঙ্গে যে আচরণ করছি, সেটিই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেগুলো টিকে থাকবে কি না।

একসময় দর্শনার্থীরা গাছটির একেবারে কাছে যেতে পারতেন। এমনকি এর বিশাল ফাঁপা কাণ্ডের ভেতরেও প্রবেশের সুযোগ ছিল। তবে গাছটিকে রক্ষা করতে ১৯৭০ এর দশকে এর চারপাশে বেড়া দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে দূর থেকেই এটি দেখার ব্যবস্থা করা হয়।

আরএসপিবির স্থানীয় ব্যবস্থাপক হলি ড্রেক গাছটির মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মেজর ওক আর পাতা না দেওয়াটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। তবে এর উত্তরাধিকার কখনো হারিয়ে যাবে না। রবিন হুড ও শেরউড অরণ্যের ইতিহাসের সঙ্গে এটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। জীবিত না থাকলেও গাছটি ভবিষ্যতেও বন্যপ্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করবে এবং প্রাচীন বৃক্ষ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেবে।

সংরক্ষণবিদরা জানিয়েছেন, মেজর ওকের বীজ ও শাখা থেকে ইতিমধ্যে বহু চারা গাছ উৎপাদন করা হয়েছে। এসব চারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহাসিক বৃক্ষের উত্তরাধিকার বহন করবে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ