ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহররমের প্রথম দিন আজ, শুরু হিজরি নববর্ষ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ১১:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ১১:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন
মহররমের প্রথম দিন আজ, শুরু হিজরি নববর্ষ ফাইল ছবি
বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বুধবার (১৭ জুন) থেকে নতুন হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম গণনা শুরু হবে।

প্রতি বছর বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান একটি নতুন বছরের সূচনা উদযাপন করেন। তবে এই নববর্ষ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১ জানুয়ারির মতো নয়। এটি হলো ইসলামি নববর্ষ বা হিজরি নববর্ষ, যা শুরু হয় মহররম মাসের প্রথম দিন থেকে। নতুন হিজরি বছরের আগমন মুসলমানদের কাছে শুধু একটি নতুন তারিখের শুরু নয়, বরং আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ারও একটি উপলক্ষ।

ইসলামি নববর্ষ কী?

ইসলামি নববর্ষ হলো ইসলামি বা হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন। এই ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে এটি সৌরবর্ষভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট। এ কারণেই ইসলামি মাস ও উৎসবগুলো প্রতি বছর কিছুটা এগিয়ে আসে।

হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হলো মহররম। আর মহররমের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় নতুন ইসলামি বছর।

হিজরি সনের ইতিহাস

হিজরি সনের সূচনা জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত বা স্থানান্তরিত হন। ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনাকে বলা হয় হিজরত।

এই হিজরত মুসলিম সমাজের জন্য ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা। পরবর্তীতে দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) রাষ্ট্রীয় কাজের সুবিধার জন্য একটি পৃথক ইসলামি ক্যালেন্ডার চালুর সিদ্ধান্ত নেন। তখন মহানবীর হিজরতের ঘটনাকে ভিত্তি করে হিজরি সনের গণনা শুরু করা হয়। সেই থেকেই ইসলামি ক্যালেন্ডারের নাম হয় হিজরি সন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি নববর্ষ

ইসলামি নববর্ষের গুরুত্ব শুধু একটি নতুন বছর শুরু হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মুসলমানদের জন্য অতীতের কাজগুলো পর্যালোচনা করার এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের সময়।

অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ মনে করেন, নতুন হিজরি বছর মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সময় খুবই মূল্যবান। জীবনের প্রতিটি দিন অর্থবহ ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা উচিত। তাই ইসলামি নববর্ষকে অনেকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন।

মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা

মহররম ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র মাস। ইসলামে চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো মহররম। কোরআন ও হাদিসে এই মাসের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে।

মহররম মাসে নফল রোজা রাখারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। বিশেষ করে আশুরার দিন, অর্থাৎ ১০ মহররম, মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঘটনার কারণে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

ইসলামি নববর্ষ কীভাবে পালন করা হয়?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামি নববর্ষ পালনের ধরনে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও ধর্মীয় আলোচনা, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। আবার কোথাও বিশেষ সভা, সেমিনার কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে হিজরতের শিক্ষা তুলে ধরা হয়।

তবে ইসলামি নববর্ষ সাধারণত জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব হিসেবে পালিত হয় না। বরং এটি একটি ভাবগম্ভীর উপলক্ষ, যেখানে মানুষ নিজের জীবন, বিশ্বাস ও দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ পায়।

নতুন বছরের শিক্ষা

হিজরি নববর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরিবর্তন ও উন্নতির জন্য কখনও দেরি হয়ে যায় না। মহানবী (সা.)-এর হিজরত ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর আস্থার এক অনন্য উদাহরণ। নতুন বছর সেই শিক্ষাগুলো আবারও স্মরণ করার সুযোগ এনে দেয়।

নতুন হিজরি বছরের শুরুতে অনেকেই নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সংকল্প নেন, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন এবং আরও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেন।

ইসলামি নববর্ষ কেবল একটি নতুন তারিখের সূচনা নয়। এটি ইতিহাস, বিশ্বাস, আত্মবিশ্লেষণ এবং নতুন আশার প্রতীক। মহররম মাসের প্রথম দিন মুসলমানদের মনে করিয়ে দেয় সময়ের মূল্য, ত্যাগের গুরুত্ব এবং সৎ পথে চলার প্রয়োজনীয়তা। নতুন হিজরি বছর তাই হতে পারে আত্মশুদ্ধি, ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার এক নতুন অধ্যায়ের শুরু।

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বুধবার (১৭ জুন) থেকে নতুন হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম গণনা শুরু হবে।

প্রতি বছর বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান একটি নতুন বছরের সূচনা উদযাপন করেন। তবে এই নববর্ষ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১ জানুয়ারির মতো নয়। এটি হলো ইসলামি নববর্ষ বা হিজরি নববর্ষ, যা শুরু হয় মহররম মাসের প্রথম দিন থেকে। নতুন হিজরি বছরের আগমন মুসলমানদের কাছে শুধু একটি নতুন তারিখের শুরু নয়, বরং আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ারও একটি উপলক্ষ।

ইসলামি নববর্ষ কী?

ইসলামি নববর্ষ হলো ইসলামি বা হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন। এই ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে এটি সৌরবর্ষভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট। এ কারণেই ইসলামি মাস ও উৎসবগুলো প্রতি বছর কিছুটা এগিয়ে আসে।

হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হলো মহররম। আর মহররমের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় নতুন ইসলামি বছর।

হিজরি সনের ইতিহাস

হিজরি সনের সূচনা জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত বা স্থানান্তরিত হন। ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনাকে বলা হয় হিজরত।

এই হিজরত মুসলিম সমাজের জন্য ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা। পরবর্তীতে দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) রাষ্ট্রীয় কাজের সুবিধার জন্য একটি পৃথক ইসলামি ক্যালেন্ডার চালুর সিদ্ধান্ত নেন। তখন মহানবীর হিজরতের ঘটনাকে ভিত্তি করে হিজরি সনের গণনা শুরু করা হয়। সেই থেকেই ইসলামি ক্যালেন্ডারের নাম হয় হিজরি সন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি নববর্ষ

ইসলামি নববর্ষের গুরুত্ব শুধু একটি নতুন বছর শুরু হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মুসলমানদের জন্য অতীতের কাজগুলো পর্যালোচনা করার এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের সময়।

অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ মনে করেন, নতুন হিজরি বছর মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সময় খুবই মূল্যবান। জীবনের প্রতিটি দিন অর্থবহ ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা উচিত। তাই ইসলামি নববর্ষকে অনেকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন।

মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা

মহররম ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র মাস। ইসলামে চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো মহররম। কোরআন ও হাদিসে এই মাসের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে।

পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
মহররম মাসে নফল রোজা রাখারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। বিশেষ করে আশুরার দিন, অর্থাৎ ১০ মহররম, মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঘটনার কারণে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

ইসলামি নববর্ষ কীভাবে পালন করা হয়?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামি নববর্ষ পালনের ধরনে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও ধর্মীয় আলোচনা, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। আবার কোথাও বিশেষ সভা, সেমিনার কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে হিজরতের শিক্ষা তুলে ধরা হয়।

তবে ইসলামি নববর্ষ সাধারণত জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব হিসেবে পালিত হয় না। বরং এটি একটি ভাবগম্ভীর উপলক্ষ, যেখানে মানুষ নিজের জীবন, বিশ্বাস ও দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ পায়।

নতুন বছরের শিক্ষা

হিজরি নববর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরিবর্তন ও উন্নতির জন্য কখনও দেরি হয়ে যায় না। মহানবী (সা.)-এর হিজরত ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর আস্থার এক অনন্য উদাহরণ। নতুন বছর সেই শিক্ষাগুলো আবারও স্মরণ করার সুযোগ এনে দেয়।

নতুন হিজরি বছরের শুরুতে অনেকেই নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সংকল্প নেন, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন এবং আরও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেন।

ইসলামি নববর্ষ কেবল একটি নতুন তারিখের সূচনা নয়। এটি ইতিহাস, বিশ্বাস, আত্মবিশ্লেষণ এবং নতুন আশার প্রতীক। মহররম মাসের প্রথম দিন মুসলমানদের মনে করিয়ে দেয় সময়ের মূল্য, ত্যাগের গুরুত্ব এবং সৎ পথে চলার প্রয়োজনীয়তা। নতুন হিজরি বছর তাই হতে পারে আত্মশুদ্ধি, ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার এক নতুন অধ্যায়ের শুরু।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ