শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয়
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৪-০৬-২০২৬ ০৮:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৬-২০২৬ ০৮:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর হোয়াইটওয়াশের সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। ২৭৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে ব্যাটাররা সেই মঞ্চ ভালোভাবেই প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন। বল হাতে চেষ্টার কমতি রাখেননি সিরিজে প্রথমবার দলে সুযোগ পাওয়া শরিফুল ইসলামও। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে এই বাঁহাতি পেসার শিকার করেছেন ৬ উইকেট । তবে ওপেনার কুপার কনোলির অসাধারণ সেঞ্চুরিতে শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
রোববার (১৪ জুন) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে ব্যাট করে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাওহীদ হৃদয় এবং লিটন দাসের ফিফটিতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে কনোলির ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৪৯ রানে ভর করে শেষ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় সফরকারীরা।
গত ম্যাচে মাথায় বলের আঘাত পাওয়ায় এদিন নিয়মিত অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজকে বিশ্রাম দেয়া হয়। তার অনুপস্থিতিতে সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ছিল বেশ হতাশার। দলীয় ৬১ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটারের উইকেট হারায় টাইগাররা। এরপর তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে তারা দুজনে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ ৮২ রানের জুটি।
দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের ৩৩তম ওভারে পায়ের পেশিতে টান অনুভব করায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন দাস। তখন তার নামের পাশে ছিল ৭৩ বলে ৪৮ রান। তার জায়গায় উইকেটে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এক প্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশতক তুলে নেন তাওহিদ হৃদয়। দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকা এই ডানহাতি ব্যাটার ৮৩ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে ৪৬তম ওভারে বেন ডরশুইসের শিকার হন।
হৃদয়ের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে নামেন দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা শেখ মেহেদী হাসান। অন্যদিকে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান মোসাদ্দেক। লিটনের বদলি হিসেবে নেমে খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ক্যারিয়ারের পঞ্চম ওয়ানডে ফিফটি তুলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ইনিংসের শেষভাগে আবার মাঠে ফিরে আসেন লিটন দাস। ফিরে এসে নিজের অর্ধশতকও পূর্ণ করেন। এটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি। শেষ পর্যন্ত এই উইকেটকিপার অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে।
টানা দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ হাতছাড়া করা অস্ত্রেলিয়া এদিন রান তাড়ায় শুরু থেকেই ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন শরিফুল। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ।
তবে সেই আশা ধীরে ধীরে নিভিয়ে দেন কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। লাবুশেন ধীরগতিতে খেললেও কনোলি ছিলেন আগ্রাসী। চার-ছক্কায় রানের চাকা সচল রেখে ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার। অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কনোলি। লাবুশেন ফিরলেও থামেননি তিনি। ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে আবারও জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ব্যাটার।
গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয়। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষিক্ত ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিকও ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষদিকে অবশ্য একাই লড়াই চালিয়ে যান শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার।
তবে শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি তিনি। ফলে ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স