ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির বিক্ষোভে নিহত ১৫

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১২-০৬-২০২৬ ১১:২৩:২০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১২-০৬-২০২৬ ১১:২৩:২০ পূর্বাহ্ন
আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির বিক্ষোভে নিহত ১৫ ফাইল ছবি
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আঞ্চলিক আইনসভায় সংরক্ষিত ১২টি আসন। এসব আসন ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েক দশক আগে পাকিস্তানে চলে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় অধিকারকর্মীরা এর বিরোধিতা করে আসছেন।

এই ইস্যুতে এই ইস্যুতে যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএসএসসি) নামে বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট বিক্ষোভের ডাক দেয়। তবে কর্তৃপক্ষ এ জোটের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগ এনেছে। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এর নেতাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।

এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও জেএএসি-এর ডাকে হাজার হাজার মানুষ আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের অভিমুখে লংমার্চ শুরু করলে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। তাদের অভিযোগ, আইনসভার প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসন এমন ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত, যারা বর্তমানে এই অঞ্চলে বসবাস করেন না।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসেবে, ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর একটি বিশাল বহর বর্তমানে রাওয়ালাকোট শহরের বাইরে অবস্থান করছে।

পুঞ্চ জেলার কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান বিবিসি উর্দুকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টহল দিচ্ছেন এবং বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের এই বহরকে রাওয়ালকোট হয়ে মুজাফফরাবাদে যেতে দেয়া হবে না বলেও তিনি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালকোটে হেলিকপ্টার দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সহিংসতার জেরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকারের চরম অবনতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ, গণগ্রেপ্তার এবং প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার ন্যাক্কারজনক। বর্তমানে মুজাফফরাবাদে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের মূল আপত্তি হলো, যারা পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে বসবাস করেন না, সেই কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জেএএসি-এর দাবি, এই সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে এবং আইনসভার সব আসনে কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নির্বাচনের সুযোগ দিতে হবে। তবে ৫ জুন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করে। অন্যদিকে ওই অঞ্চলের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই আসনগুলো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং জনদাবিতে তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

এই উত্তেজনার মধ্যেই অঞ্চলটিতে বুধবার মুজাফফরাবাদে একটি সামরিক এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা ২২ জনের সবাই নিহত হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ