সীমান্তে পুশ-ইন আতঙ্ক, অন্ধকার নামলেই বাড়ে শঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১১-০৬-২০২৬ ০১:০৩:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১১-০৬-২০২৬ ০২:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
সূর্য ডুবতেই জামালপুর সীমান্তের জনপদে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা। রাত যত গভীর হয়, ততই জোরালো হয় পাহারা আর সতর্কতা। বিএসএফ-এর পুশ-ইন চেষ্টার খবরে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোর মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিনে স্বাভাবিকতা থাকলেও অন্ধকার নামলেই সীমান্তজুড়ে ভর করে আতঙ্কের আবহ। সেই বাস্তব চিত্র জানতে সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেছে জাগো নিউজ।
সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়, সীমান্তের ওপারে আলো জ্বলছে, এপারে লাঠি, ফালা ও টর্চলাইট হাতে স্থানীয়রা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা দিচ্ছেন। কেউ রাস্তার মোড়ে, কেউ সীমান্তঘেঁষা খোলা মাঠে, আবার কেউ বিজিবির টহল দলের সঙ্গে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মির্জা সোহেল বলেন, পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। বুধবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এছাড়া দুই দেশের সীমান্তবর্তী নাগরিকদের মধ্যেও ঢিল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি কখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি। সীমান্ত এলাকায় বসবাস করায় নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি ইসলাম বলেন, আমরা দেশের জন্য পাহারা দিচ্ছি। সীমান্ত দিয়ে কাউকে অবৈধভাবে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বিজিবির সঙ্গে আমরা সবসময় আছি।
স্থানীয় বাসিন্দা জীবন মিয়া বলেন, আমাদের সীমান্তের এপাশে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। বিএসএফ অনেক সময় আলো বন্ধ করে দেয়। অন্ধকারের সুযোগে মানুষকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
সীমান্তের এই রাত যেন শুধু পাহারার নয়, অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগেরও। কারণ কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ। যদিও স্থানীয়দের প্রতিরোধে অধিকাংশ চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। তবুও সীমান্তবাসীর মধ্যে রয়ে গেছে আতঙ্ক।
পাহারায় থাকা স্থানীয় বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমাদের যত কষ্টই হোক, আমরা সীমান্ত পাহারা দেবো। আমাদের জীবন থাকতে কোনো ভারতীয় নাগরিককে জোর করে এ দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
সীমান্তের বাস্তবতা তুলে ধরে পাররামরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া বলেন, আমাদের নিজস্ব কাঁটাতারের বেড়া নেই, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। বিএসএফ যখন তাদের পাশের আলো বন্ধ করে দেয়, তখন পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। এই সুযোগে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। আমরা চাই সীমান্ত সুরক্ষায় আরও বাজেট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হোক।
সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের সঙ্গে। গভীর রাতেও তিনি নিজেও সীমান্ত পরিদর্শনে ছিলেন।
হাসানুর রহমান বলেন, রাত দুইটা পার হয়ে গেছে, আমি নিজেও সীমান্ত ঘুরে দেখছি। বেশ কয়েকদিন ধরে বিএসএফ পুশ-ইনের চেষ্টা করছে। আমরা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা না ঘুমিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছি, যাতে দেশের মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। কোনো অবস্থাতেই বিএসএফকে পুশ-ইন করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় এখনো এক বৃদ্ধ অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাকে নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, বৃদ্ধকে থানায় আনা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স