সরকারের ১০০ দিন: আশার পাশাপাশি উদ্বেগও দেখছে টিআইবি
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৭-০৬-২০২৬ ০২:৫২:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৬-২০২৬ ০৪:২৬:৫৯ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিশন গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেয়া উদ্বেগজনক।
রোববার (৭ জুন) টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিচার বিভাগ স্বাধীন না হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের ১০০ দিন একদিকে আশা জাগানিয়া ও সম্ভাবনাময় এবং অন্যদিকে সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও বিশেষ করে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা পূরণে সুনির্দিষ্ট পথরেখার ঘাটতি বিবেচনায় উদ্বেগজনক।
বিএনপি সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এভাবেই বিশ্লেষণ করেছে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সরকারের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
দুদক কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন না থাকার বিষয়ে বারবারই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদকের ক্ষেত্রে সরকার আত্মঘাতী অবস্থান নিয়েছে। কমিশন থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাসেও কমিশন গঠন না হওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও বিব্রতকর। কমিশনের এখতিয়ার সচিবকে দেয়া প্রতিহত করতে হবে।
উদ্বেগ প্রকাশ করেন দলীয় পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টিতেও। তার বক্তব্যে উঠে আসে বিচার বিভাগ স্বাধীন না হওয়ার আক্ষেপের কথাও।
সরকার গঠনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা ঘোষণা এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও এসব না থামায় সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার বিষয়ে দুদকের ভূমিকা রাখা উচিত। কেউই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।
সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা-অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে টিআইবি। এ সময়ে দেশে ৬০৫টি খুন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিআইবি বলছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স