মেহেদীর শখের দুম্বা এখন দেখাচ্ছে লাভের মুখ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-০৬-২০২৬ ০৩:৪৭:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৬-২০২৬ ০৪:৫১:০০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়ে ঘরে বসে না থেকে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে সফলতার পথ দেখাচ্ছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সাবেক সেনাসদস্য মেহেদী হাসান লিটন। উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে শখের বশে শুরু করা তার মরুর দেশের দুম্বার খামার এখন বাণিজ্যিকভাবে লাভের মুখ দেখছে। দেড় বছরের ব্যবধানে এই খামার পুরো এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সরেজমিনে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে লিটনের খামারে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত পরিবেশে লালন-পালন করা হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের দুম্বা। উন্নত খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার কারণে প্রতিটি প্রাণী বেশ সুস্থ ও সবল। বর্তমানে এই খামার দেখতে এবং দুম্বা পালনে পরামর্শ নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন।
সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর মেহেদী হাসান লিটন কৃষিনির্ভর ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা করেন। বাংলাদেশে সাধারণত গরু-ছাগলের খামার বেশি হলেও তিনি মরুভূমির প্রাণী দুম্বাকে এদেশের আবহাওয়ায় লালন-পালনের চ্যালেঞ্জ নেন। প্রায় দেড় বছর আগে মাত্র ৪টি দুম্বা নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে অনেকে সংশয় প্রকাশ করলেও কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় তিনি সফল হন।
উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান লিটন জানান, শুরুতে খামারের শেড নির্মাণ এবং ৪টি উন্নত জাতের দুম্বা কিনতে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছিল। মাত্র দেড় বছরে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে খামারে এখন দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। এর মধ্যে একটি দুম্বা তিনি দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, এদেশের সাধারণ সবুজ ঘাস, খড়, গম এবং ভুসি খাইয়েই এদের বড় করা হচ্ছে। ছাগল বা ভেড়ার মতোই সহজ উপায়ে এবং আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে এদের লালন-পালন করা সম্ভব।
লিটন বলেন, “সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও পরিশ্রম করার মানসিকতা আমাকে এই ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগে সাহস জুগিয়েছে। আমাদের দেশেও যে দুম্বা পালন সম্ভব, তা আমি প্রমাণ করতে পেরেছি। আমার পরিকল্পনা হলো খামারটি আরও বড় করা এবং স্থানীয় বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও বাচ্চা সরবরাহ করে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামকে একটি আদর্শ দুম্বা উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস) ডা. তানভীর আনজুম অনিক বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মেহেদী হাসানের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুপ্রেরণামূলক। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে তাকে নিয়মিত চিকিৎসা, কৃমিনাশক ওষুধসহ সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স