ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​প্রথম বৈঠকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ১২:৪৬:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ০১:০৮:০১ অপরাহ্ন
​প্রথম বৈঠকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ​ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ফল প্রকাশে অনিয়ম এবং মূল্যায়ন ত্রুটিসহ নানা বিতর্কের জেরে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

বুধবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা জানান, আগামী ৬ জুন তারা একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিট, এসএসসি এবং সিবিএসইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের কারণে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি এবং শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

দলের সদস্য ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস বলেন, আমাদের প্রধান দাবি হলো এই ব্যবস্থার মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে প্রায় ৮ লাখ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দুজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, কিন্তু সেটিকে শাস্তি বলা যায় না। কারণ তাদের সাময়িক বরখাস্তও করা হয়নি। আমরা এই ব্যবস্থার জবাবদিহি চাই।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ জানিয়েছে, ৬ জুন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে সদস্যরা দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত মিছিল করবেন। পাশাপাশি যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ইতোমধ্যে এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের তিন মুখপাত্রের নামও ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন—অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং ম্যাককিনসির সাবেক পরামর্শক ও আম আদমি পার্টির (আপ) মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।

সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু বেকার তরুণকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচার হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা শুরু হয়। পরে এটি তরুণদের নেতৃত্বে একটি ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী’ আন্দোলনে রূপ নেয়।

দলটির দাবি, ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি। তবে এটি এখনো কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়।

আগামী ৬ জুনের কর্মসূচিই হবে দলটির প্রথম সুসংগঠিত বিক্ষোভ। এ বিষয়ে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতির জন্য আবেদন করব। দিল্লি পুলিশের প্রতি আমাদের অনুরোধ, তারা যেন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বোস্টনপ্রবাসী প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক জানান, কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি দিল্লি আসবেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সবাই বিমানবন্দরের সামনে আমার সঙ্গে যোগ দেবেন। এরপর আমরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চাইব।

তবে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছি। সবকিছু আইন ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই হবে। আমরা সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

অন্যদিকে বিজেতা দাহিয়া বলেন, অভিজিৎ দীপককে গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলন থেমে থাকবে না।

তিনি বলেন, এটি শুধু অভিজিতের দল নয়, এটি তরুণদের আন্দোলন। সোনম ওয়াংচুকের মতো ব্যক্তিত্ব যদি গ্রেপ্তার হতে পারেন, তাহলে অভিজিৎও হতে পারেন। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ