রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আদালতে নিজেকে নিরপরাধ দাবি সোহেলের স্ত্রীর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০১-০৬-২০২৬ ১২:৪৩:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-০৬-২০২৬ ১২:৪৩:২৪ অপরাহ্ন
ফোকাস বাংলা নিউজ
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেছেন প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না। সোমবার (১ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে অভিযোগ পড়ে শোনানোর সময় এই দাবি করে সে।
এদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর এজালাসে তোলা হয়। শুনানি শেষে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দেন আদালত। সেই সঙ্গে আগামীকাল (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
দুই আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রথমে সোহেল রানাকে অভিযোগ পড়ে শোনান আদালত। বলেন, ‘এই অভিযোগ মোতাবেক শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন।’ তখন রানা জোরাল কণ্ঠে বলে, ‘আমার কিছু বলার আছে।’ তবে বিচারক সুযোগ দেন না।
একইভাবে স্বপ্নাকে অভিযোগ পড়ে শোনালে তিনি কাঠগড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আদালতে নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই স্যার।’ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সোহেল রানাকে বলেন, ‘আপনি কন আমি কিছু করছি?’ তখন সোহেল রানা বিচারককে বলেন, ‘আমার স্ত্রী নির্দোষ।’
আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে এদিন সকাল পৌনে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানে তাদের আদালতে আনা হয়। সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদেরকে এজলাসে নেওয়া হয়।
গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেদিন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
এর আগে ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল। অভিযোগপত্রে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-হত্যা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ধ্বংসে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে রামিসার বাবা ও প্রতিবেশীসহ ১৮ জনকে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স