ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাম্য ও সম্প্রীতির কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১০:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১০:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
সাম্য ও সম্প্রীতির কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী আজ ফাইল ছবি
অন্যায়, অসাম্য, অসুন্দরের বিরুদ্ধে চিরবিদ্রোহী, স্বাধীনতা, মানবমুক্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির আমৃত্যু প্রচারক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম জন্মবার্ষিকী আজ। আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এই দিনে অবিভক্ত ভারতের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 

বাংলা সাহিত্যের অমর অবিস্মরণীয় এই প্রতিভা জন্মেই দেখেন শোষণ ও বঞ্চনার বিপরীতে ‘ক্ষুব্ধ স্বদেশ ভূমি’। তাই তো তিনি মানবমুক্তির লক্ষ্যে নিজের জীবন-প্রাণ নিবেদিত করেন। মানবমুক্তির হাতিয়ার হিসাবে তিনি বেছে নেন কলম। আর তার এই কলমের আঁচড় থেকে অবিরাম বিচ্ছুরিত হয়েছে অমর গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, এমনকি গণমুখী সংবাদ। অধিকারের প্রশ্নে যুদ্ধে যাওয়ার সৈনিকও ছিলেন তিনি। বলা যায়, তার জীবন ও কর্মের সমন্বয়ের আরেক নাম ঔপনিবেশিকতার শিকল ভাঙার লড়াই-বিদ্রোহ। তার বিদ্রোহের বিপরীতে ছিল প্রেম, প্রেমের পরিণতি ছিল সাম্য। তাই তো তিনি তার বক্তৃতায় দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পেরেছেন, ‘আমি বিদ্রোহ করেছি, বিদ্রোহের গান গেয়েছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, যা মিথ্যা-কলুষিত-পুরাতন-পচা সেই মিথ্যা সনাতনের বিরুদ্ধে। ধর্মের নামে ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।’ 

এক হাতে ‘বাঁকা বাশের বাঁশরি, আরেক হাতে রণতূর্য’ রেখে তাই তো বলতে পেরেছেন, ‘হিন্দু-মুসলমানে দিনরাত হানাহানি, জাতিতে জাতিতে বিদ্বেষ, যুদ্ধবিগ্রহ, মানুষের জীবনে একদিকে কঠোর দারিদ্র্য-ঋণ-অভাব; অন্যদিকে লোভী অসুরের যক্ষের ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাষাণ স্তূপের মতো জমা হয়ে আছে। এ অসাম্য ভেদজ্ঞান দূর করতেই আমি এসেছিলাম। আমার কাব্যে, সংগীতে, কর্মজীবনে অভেদ ও সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমি যশ চাই না, খ্যাতি চাই না, প্রতিষ্ঠা চাই না, নেতৃত্ব চাই না। জীবন আমার যত দুঃখময়ই হোক, আনন্দের গান-বেদনার গান গেয়ে যাব আমি। দিয়ে যাব নিজেকে নিঃশেষ করে সকলের মাঝে বিলিয়ে। সকলের বাঁচার মাঝে থাকবো আমি বেঁচে। এই আমার ব্রত, এই আমার সাধনা, এই আমার তপস্যা।’

এই যুগপ্রবর্তক, কালজয়ী মহান কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জন্মবার্ষিকীর দিনে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, কাজী নজরুলের অমর সৃষ্টি শুধু নিজ ধর্ম, সমাজ-সম্প্রদায়, দেশ ও কালের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকেনি, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বদা গেয়েছেন মানবতার জয়গান। হয়ে উঠেছেন সকল সমাজের, সকল কালের।

পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্তু, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতন করার জন্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার তখন দরকার হয়ে পড়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাক্সিক্ষত প্রতিভা।

কেবল বাণীতেই শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, সরকারপ্রধান ইতোমধ্যে ‘নজরুলবর্ষ’ ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত নজরুল সাহিত্য ও জীবন দর্শনের নানাদিক নিয়ে থাকবে নানা আয়োজন। বিশেষ করে সংস্কৃতি অনুরাগীদের সম্পৃক্ত করে এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘নজরুলবর্ষ’ উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকর্মকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গবেষক, নজরুলশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। ঈদের পরপরই বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে দ্রুত বাস্তবায়নে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বছরব্যাপী এ আয়োজনে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। 

জন্মবার্ষিকী সামনে রেখে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে নজরুলজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীর ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে শনিবার ‘সাংবাদিক নজরুল’ বিষয়ক সেমিনার ও নজরুল পদক দেওয়া হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির চার দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী হয়েছে গতকাল। ঢাকার বাইরে সরকারি উদ্যোগে হয়েছে মূল আয়োজন। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ময়মনসিংহের ত্রিশালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারেক রহমান নজরুলবর্ষ এবং ত্রিশালকে নজরুল সিটি ঘোষণার বিষয়ে ভাবতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া নজরুল ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা, দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত পরিবেশনা ও স্মরণানুষ্ঠান। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকাও কবির জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনে প্রকাশ করবে ক্রোড়পত্র।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ