ঢাকা , রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত খাগড়াছড়ি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ০৪:০৩:১৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ০৪:০৩:১৮ অপরাহ্ন
ঈদে পর্যটক বরণে প্রস্তুত খাগড়াছড়ি ছবি : সংগৃহীত
দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে জেলার হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটক বরণে প্রস্তুত। একই সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোরদার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর খাগড়াছড়ির পাহাড়, অরণ্য, ঝিরি-ঝরনা ও উপত্যকা সারা বছরই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। ঈদের ছুটিতে বিশেষভাবে জমে ওঠে জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো আলুটিলা গুহা, জেলা পরিষদ পার্কের ঝুলন্ত ব্রিজ, মায়াবিনী লেক, তারেং ও রিছাং ঝরনাসহ বিভিন্ন স্পট।

ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্রে সংস্কার ও মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে দায়িত্বরত চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা বলেন, রমজানে তেল সংকট ও নানা প্রতিকূলতার কারণে পর্যটক কম থাকায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে ঈদে পর্যটকের চাপ বাড়বে, এতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

খাগড়াছড়ি অবকাশ আবাসিক হোটেলের মালিক বলেন, খাগড়াছড়ির প্রত্যেকটি হোটেল মোটেল পর্যটন বরণে ইতোমধ্যে সাজসজ্জায় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, ঈদে পর্যটকদের সেবা দিতে জেলার প্রায় ৫০টি হোটেল রিসোর্ট প্রস্তুত রয়েছে।

হোটেল গাইরিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, খাগড়াছড়ির প্রত্যেকটি হোটেল মোটেল রিসোর্ট অত্যন্ত পর্যটক বান্ধব এবং খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকে। ঈদে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসতে পারেন।

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশাবাদী দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল বুকিং শুরু হয়ে গেছে।

জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের তত্ত্বাবধায়ক কান্ত ত্রিপুরা জানান, আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছি। ঈদে ভালো ব্যবসার আশা করছি।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঈদের ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল, মোবাইল টিম ও বিশেষ নজরদারি থাকবে।

খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া বলেন, প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে আমাদের টিম কাজ করবে। কোনো পর্যটক দুর্গম এলাকায় বিপদে পড়লে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের পরবর্তী এক সপ্তাহে খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্যালি মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটক ভ্রমণে আসতে পারেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও বেশি সচল হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

ঈদের ছুটিতে ঘুরে যেতে পারেন খাগড়াছড়ির সেরা ৫ ভ্রমণ স্পট
১. আলুটিলা গুহা

প্রায় ৩৫০ ফুট দীর্ঘ এই প্রাকৃতিক গুহা খাগড়াছড়ির অন্যতম আকর্ষণ। ভিতরে প্রবেশ করতে টর্চ প্রয়োজন হয়, যা অ্যাডভেঞ্চারের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয় যে কোন পর্যটকের।

২. রিছাং ঝরনা

শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ জায়গা। তবে সাঁতার না জেনে পানিতে নামার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

৩. সাজেক ভ্যালি

মেঘ, পাহাড় ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত সাজেক ভ্যালি ঈদের সময় ভ্রমণকারীদের অন্যতম পছন্দ। প্রকৃতিপ্রেমীদর প্রধান আকর্ষণ সাজেক ভ্যালি।

৪. মায়াবিনী লেক

স্বচ্ছ জলরাশি ও সবুজ পাহাড়ঘেরা এই লেক পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য উপযুক্ত।

৫. শান্তিপুর অরণ্য কুটির

প্রায় ৬৫ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই বৌদ্ধ তীর্থস্থান শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত।

ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চাইলে খাগড়াছড়ি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। পাহাড়, ঝরনা, মেঘ আর নীরবতার মিশেলে এই জেলা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দিতে প্রস্তুত।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ