ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি শুভেন্দুর

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ১২:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ১২:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন
​অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি শুভেন্দুর ​ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিতকরণ, আটক এবং বিএসএফের মাধ্যমে পুশব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার (২০ মে) নবান্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত তিনটি বিশেষ পদক্ষেপ বা ‘ডি’ (ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট)-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে তিনি জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।  

নবান্নে সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ১৪ মে ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর জন্য বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ থেকেই এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এ ধরনের সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এখন থেকে বাংলায় চিহ্নিতকরণ (ডিটেক্ট), ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া (ডিলিট) এবং ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে মুখ্যমন্ত্রী ‘ডিলিট’ শব্দটির মাধ্যমে ঠিক কী বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট না করলেও, রাজ্য প্রশাসনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর অর্থ সম্ভবত ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশ এখন বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর বিএসএফ তাদের পুশব্যাকের বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে ঢাকা জানিয়েছে, তারা কেবল নথিপত্র দ্বারা যাচাইকৃত নিজস্ব নাগরিকদেরই ফেরত নেবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে এসেছেন এবং ‘নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯’ (সিএএ) এর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন তাদের গ্রেফতার করা হবে না। তবে মুসলিমরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকবেন।

একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আসা অমুসলিম অভিবাসীরা যেমন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানরা সিএএ-র অধীনে ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রশাসনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’। এর মধ্যে ‘ডিলিট’ বা অবৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এই পদক্ষেপের সামাজিক প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বাংলায় একটি চিরস্থায়ী সমস্যা। তবে হঠাৎ করে মুসলিম অভিবাসীদের চিহ্নিত করার এই তৎপরতা সামাজিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বারবার অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ২,২০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ১,৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের সরকার ৫৫৫ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিতে পারতো, কিন্তু ভোটব্যাংক রক্ষা এবং একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষকে তোষণের জন্য তারা তা করেনি।

সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দেখা গেছে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা কেবল বাংলাতেই নয়, সারা দেশেই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের মতো অপরাধের জন্য দায়ী।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ