ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​এ দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৪:২৫:১৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৪:২৫:১৬ অপরাহ্ন
​এ দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল ​ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি’র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করে জনগণের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, এ দেশের মানুষ তাদের কোনোদিন ক্ষমতায় আনবে না।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জে পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পরিদর্শনে এসে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটা দল আছে ধর্মের নামে রাজনীতি করে। তারা খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলে। মিঠা মিঠা ধর্মের কথা বলবে আর মিথ্যা কথা বলবে। এই করে রাজনীতি হবে না। জনগণের ভালোবাসা পেতে হলে সত্য কথা বলে জনগণকে ভালোবেসে এগোতে হবে।

নির্বাচনের আগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন ভীষণভাবে তারা ঢাকঢোল বাজাচ্ছিল, ক্ষমতায় এসে গেছে। কিন্তু তারা আসেনি এবং আসতেও পারবে না।

তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলছি, এই দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না। কারণ, এই জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। আমাদের যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাদেরকে হত্যা করেছিল, আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছিল। আমরা কোনমতেই তাদেরকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারি না, এই দেশের মানুষ পারে না।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তার অর্থ এই না আপনারা দেশের স্বাধীনতার বাইরে গিয়ে কথা বলবেন। অস্তিত্বের বাইরে গিয়ে কথা বলবেন আর আমরা সেটা মেনে নেব। এই দেশের মানুষ তা করতে দেবে না।

জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কিছু মানুষ আছে, কিছু গোষ্ঠী আছে, কিছু দল আছে, যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা বিভিন্নভাবে এই অপপ্রচার চালিয়ে, মিথ্যা কথা বলে মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে যে আমরা নাকি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না। অথচ আমরাই জুলাই সনদ তৈরি করেছি।

দলের সংস্কার ভাবনার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কার আমাদের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ---তিনি দেশকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে এসেছিলেন। এটা একটা বিশাল সংস্কার ছিল। তিনি মিডিয়াকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন, বিচারবিভাগকে স্বাধীন করেছিলেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মেয়েরা ডিগ্রি পাস করবে, কোনো বেতন দিতে হবে না। এই যে মানুষের পক্ষে, মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজগুলো—এই কাজগুলো আমরাই শুরু করেছিলাম। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে প্রথম ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন সংস্কারে। আমরা লড়াই করেছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ১৪-১৫ বছর। আমরা ২০২১ সালে, ২২ সালে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি দিয়েছিলাম। সুতরাং যারা মানুষকে বলেন বিএনপি এই সরকার সংস্কার করতে চায় না—মিথ্যা কথা বলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন হবে, মন্ত্রীও বলেছেন হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ এখানে বিমানবন্দর চালু হবে।

নিজের বয়স ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার এই বয়সে আপনাদেরকে যে কথাগুলো আমি দিয়েছি, সে কথাগুলো আমি পালন করার চেষ্টা করছি। আল্লাহ তায়ালার কাছে আমার একটাই চাওয়া, আল্লাহ যেন আমাকে সুযোগ দেন। আমি নির্বাচনের পূর্বেও আপনাদেরকে বলেছিলাম যে আমার বয়স হয়ে গেছে। আমি আর সামনে নির্বাচন করতে পারব কিনা, আপনাদের সামনে এসে আবার `মোক একটা ভোট দেন’ কহিবা পারিম কিনা মুই জানো না (`আমাকে একটা ভোট দেন’ বলতে পারব কিনা, আমি জানি না)। সুতরাং আমি যাওয়ার আগেই কাজ করতে চাই।

বিমানবন্দর পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বেসামরিক বিমান বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং নেতা-কর্মীরা।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ