ঈদুল আজহায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা রাখার নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-০৫-২০২৬ ০৮:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-০৫-২০২৬ ০৮:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে ছুটির দিনগুলোতে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ঈদের ছুটিকালীন সময়ে (২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমারজেন্সী ওটি, ল্যাব, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই সেবা সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক সরকারি পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিপত্রে উল্লেখিত প্রধান নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
জরুরি সেবা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড: জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ল্যাব এবং এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। এছাড়া, ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকাল ও বিকাল—দুই বেলা ওয়ার্ডে রাউন্ড দিতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের 'অনকল' সেবা চালু রাখতে বলা হয়েছে।
বহিঃবিভাগ ও ছুটি সমন্বয়
হাসপাতালের আউটডোর বা বহিঃবিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে ২৬ মে এবং ৩০ মে বহিঃবিভাগ চালু রাখা যেতে পারে, যা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সমন্বয় করবেন। এছাড়া, জনবল সংকট এড়াতে ঈদের আগে-পরে সমন্বয় করে কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঔষধ ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা
ছুটি শুরুর আগেই পর্যাপ্ত ঔষধ, আইভি ফ্লুইড, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও কেমিক্যাল রি-এজেন্ট মজুদ রাখতে হবে। এই সময়ে স্টোর কিপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করতে হবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
রোগী রেফার করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি: উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া রোগীদের অন্য হাসপাতালে রেফার করার প্রবণতা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। কোনো রোগীকে রেফার করতেই হলে তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ও যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রাপ্তিতে সহায়তা করতে হবে।
বেসরকারি হাসপাতাল ও পশুর হাটের প্রস্তুতি
দেশের সকল বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে নিবন্ধিত চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ এবং হাম ওয়ার্ড খোলা রাখতে হবে। এছাড়া পশুর হাটের নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও অন্যান্য
হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম চিঠি দিতে হবে এবং অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন এবং তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
যেকোনো ধরণের দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার জন্য নির্দেশনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স