ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন নথি ফাঁস

ইমরান খানকে সরাতে কলকাঠি নেড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০২:৩৪:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০৩:৫৫:২৯ অপরাহ্ন
ইমরান খানকে সরাতে কলকাঠি নেড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ​ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বহুল আলোচিত সেই ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ দাবি আবারও আন্তর্জাতিক মহলে জোরালোভাবে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’ পাকিস্তানের সেই অতিগোপন কূটনৈতিক নথির (যা পাকিস্তানে সাইফার নামে পরিচিত) মূল কপিটি সম্পূর্ণ প্রকাশ করেছে।

এই ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ মাসে এক বৈঠকে মার্কিন শীর্ষ এক কূটনীতিক সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরালে ওয়াশিংটনের কাছে ‘সব মাফ করে দেওয়া হবে।’

প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ‘কেবল আই-০৬৭৮’ নম্বরের এই গোপন বার্তাটি ২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন। এতে মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু'র সাথে তাঁর একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের বিবরণ রয়েছে। এই বৈঠকের ঠিক এক মাস পরই, অর্থাৎ ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর পরোক্ষ সমর্থনে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান।

সব মাফ করে দেওয়া হবে
ফাঁস হওয়া সাইফারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিষয়ে ইমরান খানের ‘আগ্রাসী নিরপেক্ষ’ অবস্থানের কারণে চরম ক্ষুব্ধ ছিল জো বাইডেন প্রশাসন। বৈঠকে ডোনাল্ড লু পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে বলেন, আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট যদি সফল হয়, তবে ওয়াশিংটনে সবকিছু ক্ষমা বা মাফ করে দেওয়া হবে। কারণ রাশিয়ার সফরটিকে সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যথায় সামনে (পাকিস্তানের জন্য) পথ চলা খুবই কঠিন হবে।

ডোনাল্ড লু আরও সতর্ক করেছিলেন যে, ইমরান খান ক্ষমতায় থাকলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাকিস্তান সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান এই বার্তার সাথে নিজের মূল্যায়নে লিখেছিলেন, হোয়াইট হাউসের স্পষ্ট সবুজ সংকেত ছাড়া ডোনাল্ড লু এত বড় ও কড়া হুমকি দিতে পারেন না। তিনি এটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আমেরিকার নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।

সামরিক বাহিনীর ভূমিকা
বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী ক্রিকেট কিংবদন্তি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি তোশাখানা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের (সাইফার মামলা) অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দী আছেন। ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই ইমরান খান দাবি করে আসছিলেন যে, ওয়াশিংটন রাশিয়ার সাথে তাঁর স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এই চক্রান্ত করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এবং পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলগুলো (পিএমএল-এন ও পিপিপি) বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল, তবে ড্রপ সাইটের এই প্রতিবেদন ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর দাবিকে অনেকাংশে সত্য প্রমাণিত করল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইমরান খানের সরকার যখন মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের চাপ উপেক্ষা করে নিজস্ব কূটনৈতিক লাইন বজায় রাখছিল, তখন পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট মনে করেছিল ইমরান দেশকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করছেন। ইমরান খানের অজান্তেই ২০২১ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ওয়াশিংটনে লবিস্ট নিয়োগ করেছিল।

ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর পাকিস্তানের বর্তমান সামরিক সমর্থিত সরকার ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মার্কিন ঠিকাদারদের মাধ্যমে গোপনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ শুরু করে। বিনিময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে পাকিস্তানের বেলআউট প্যাকেজ বা ঋণ প্রাপ্তি সহজ করা হয়।

এছাড়া ইমরান খান যে সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁর বিদায়ের পর পাকিস্তান সেই চুক্তিতেও সই করে। বর্তমান বাস্তবতায় এই সাইফার ফাঁসের ঘটনা পাকিস্তানের রাজনীতি ও পাক-মার্কিন সম্পর্কে নতুন করে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ