তবুও অদম্য রাবেয়া
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৮-০৫-২০২৬ ০১:১২:৩৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৫-২০২৬ ০২:৩৩:২৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জন্ম থেকেই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হচ্ছে রাবেয়া খাতুন। মুখের ডান পাশে বড় টিউমার, একটি চোখে নেই দৃষ্টিশক্তি- তবুও থেমে নেই তার জীবনযুদ্ধ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর দারিদ্র্যকে জয় করে পড়ালেখার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের এই কিশোরী।
রাবেয়া খাতুন বর্তমানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্য দশজন শিক্ষার্থীর মতোই তারও স্বপ্ন- লেখাপড়া করে নিজের পরিচয় গড়ে তোলা, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথ যেন কষ্ট আর সংগ্রামে ভরা।
রাবেয়ার বাবা মালেক মাতব্বর একজন দিনমজুর। অতি কষ্টে সংসার চালাতে হয় তাদের। জন্মের পর থেকেই রাবেয়ার মুখের ডান পাশে টিউমার দেখা দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিউমারটিও বড় হতে থাকে। বর্তমানে তার একটি চোখ সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। শারীরিকভাবে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও রাবেয়া কখনো পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যায়নি।
প্রতিদিন কষ্টকে সঙ্গী করেই বই-খাতা হাতে স্কুলে যায় সে। পরিবারের অভাবের সংসারে মায়ের গৃহস্থালির কাজে সহায়তা করার পাশাপাশি বাবার কাজেও সহযোগিতা করে। তারপরও নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছে অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও রাবেয়ার শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও মানসিক দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার সংগ্রামী জীবন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অনেকেই তার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘অনেকেই নানা কথা বলে, কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি পড়াশোনা করে কিছু করতে চাই। যদি কেউ একটু সাহায্য করতেন, তাহলে হয়তো আমি স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারতাম।’
রাবেয়ার মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই আমার মেয়েটা অনেক কষ্ট নিয়ে বড় হচ্ছে। মুখে টিউমার থাকার কারণে ঠিকমতো চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়। তারপরও সে লেখাপড়া ছাড়তে চায় না। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারছি না। ডাক্তার দেখানো ও অপারেশনের জন্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষের কাছে আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাই।’
পিতা মালেক মাতব্বর বলেন, ‘আমি দিনমজুর মানুষ। বাড়ির জায়গা-জমি বলতে কিছুই নেই। অনেক চেষ্টা করেও মেয়ের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। কিন্তু মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করতে চাই না। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো মেয়েটার চিকিৎসা করাতে পারব।’
পরিবারের দাবি, রাবেয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এ জন্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে এত বড় অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষের সামান্য সহযোগিতাই বদলে দিতে পারে রাবেয়ার জীবন। একটি সহানুভূতির হাত হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে তার হাসি, তার স্বপ্ন এবং নতুন করে বাঁচার আশা। রাবেয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর : ০১৭৭১-৭৫৪৭৫৭
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স