ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ , ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী-কন্যাসহ হামাসের সামরিক প্রধান নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ১০:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ১০:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন
স্ত্রী-কন্যাসহ হামাসের সামরিক প্রধান নিহত ছবি : সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। হামলায় তার স্ত্রী ও কন্যাও প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে হামাস তাদের এই শীর্ষ সামরিক নেতার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, শুক্রবার (১৫ মে) গাজা সিটিতে একটি সুনির্দিষ্ট (প্রিসাইজ) বিমান হামলা চালিয়ে হাদ্দাদকে হত্যা করা হয়েছে। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের হাতে নিহত হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে শীর্ষস্থানীয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ছিল ফিলিস্তিনিদের ‘নাকবা দিবস’-এর ৭৮তম বার্ষিকী। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত করার স্মরণে প্রতিবছর এই দিনটি পালন করা হয়। এবারের নাকবা দিবসেই এই শীর্ষ হামাস নেতাকে সপরিবার হত্যা করল ইসরায়েল।

বিবৃতিতে হামাস জানায়, ১৯৭০ সালে জন্ম নেয়া হাদ্দাদ ছিলেন সংগঠনটির সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। শনিবার মধ্য গাজার আল-আকসা মার্টার্স (শহিদ) মসজিদে হাদ্দাদ, তার স্ত্রী এবং তাদের ১৯ বছর বয়সী কন্যার যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী ওই হামলা চালায় বলে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের অন্তত দুটি হামলায় তিন নারী ও শিশুসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া শনিবারও দুটি পৃথক বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানান, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় দুজন এবং উত্তরের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একজন নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এই দুটি ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৮৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক উভয়েই রয়েছেন। একই সময়ে সশস্ত্র যোদ্ধাদের হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, হাদ্দাদ ছিলেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মে মাসে মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর হাদ্দাদ গাজায় হামাসের সামরিক প্রধানের দায়িত্ব নেন। হামাস সূত্রে জানা গেছে, ‘দ্য ঘোস্ট’ বা ‘ভূত’ ডাকনামের এই নেতা এর আগেও ইসরায়েলের একাধিক হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে হামাসের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে যুক্ত থাকা হাদ্দাদ ছিলেন সংগঠনটির দীর্ঘতম সময় ধরে অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন  


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ