৩৩ মণ ওজনের ‘কালো মানিক’ দেখতে খামারে ভিড়
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৩-০৫-২০২৬ ০৩:৪২:০২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৫-২০২৬ ০৪:১২:১৭ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একটি গরুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ‘কালো মানিক’ নামের বিশালাকৃতির এই গরুটির ওজন প্রায় ৩৩ মণ। যার দাম হাঁকা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা।
গরুটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে খামারে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ আসছেন শুধু দেখতে, আবার কেউ আসছেন কোরবানির জন্য গরুটি কিনতে।
জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ার সায়েদাবাদ এলাকার আনোয়ার ডেইরি ফার্মে জন্মের পর বিশেষ পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে গরুটি। খামারজুড়ে এখন যেন উৎসবের আমেজ। বিশাল দেহের কারণে গরুটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাশের উপজেলা থেকেও মানুষ আসছে বিশালদেহী ষাঁড় ‘কালো মানিক’কে দেখতে।
হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান শংকর জাতের এই ষাঁড়টিকে পাঁচ বছর ধরে লালন-পালন করছেন খামারি আনোয়ার হোসেন। এই গরুটিকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাওয়ানো হয় সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা ও খড় ইত্যাদি।
খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জন্মের পর থেকে খুব যত্নে কালো মানিককে বড় করেছি। আকৃতিতে বিশাল হলেও এটি শান্ত স্বভাবের। তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধেও রাখতে হয় না। গত পাঁচ বছরে একে বড় করতে আমার প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।’
আনোয়ার ডেইরি ফার্মে ‘কালো মানিক’ ছাড়াও রয়েছে মোট ৬০টি গরু। রাঙ্গুনিয়ার চৌমুহনী গরুর বাজারে প্রতি বছর সবচেয়ে বড় গরুটি সরবরাহ করা হয় এই খামার থেকে। স্থানীয় বাজারে তার গরুর চাহিদাও বেশ।
খামারের এক কর্মচারী জানান, সকালে গরুটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। দুপুর ও রাতেও আলাদা খাদ্যতালিকা মেনে খাওয়ানো হয়। গরমের কারণে নিয়মিত গোসল করানো এবং বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
উদ্যাক্তা আনোয়ারের খামারে গরুর পাশাপাশি রয়েছে পোল্ট্রিও। তিনি জানান, তার লেয়ার খামারের দুটি শেডে ৮ হাজার মুরগি রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার ২০০টি ডিম পাওয়া যায়। বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার টাকার ডিম বিক্রি হয় তার খামার থেকে। এ ছাড়া প্রতিদিন খামার থেকে পাওয়া যায় ৩০০ লিটার দুধ। আনোয়ার হোসেনের এই কর্মযজ্ঞ সামলাতে বর্তমানে ১০ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রামে কোরবানিতে চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি প্রাণীর। তবে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি প্রাণী। সে হিসেবে এবার স্থানীয় উৎপাদনের বিপরীতে ৩৫ হাজারের কিছু বেশি প্রাণীর ঘাটতি রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর ঘাটতি পূরণে বেপারীরা নাটোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ তিন পার্বত্য জেলা থেকে নিয়ে আসে। যে কারনে চট্টগ্রামে কেরবানিতে পশুর সংকট হবে না।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স